অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় প্রসূতির ভাইকে পেটালো ক্লিনিক মালিক

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৮ | আপডেট: ৬:০৯:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৮

কুষ্টিয়ার খোকসার একটি ক্লিনিকে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় প্রসূতির ভাই কলেজছাত্র রবিউল ইসলামকে রাস্তায় নিয়ে মারপিট করেছে ক্লিনিক মালিক।

শুক্রবার বিকালে রোগীর ছাড়পত্র দেয়ার সময় অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্লিনিক মালিক ও তার লোকজন তাকে রাস্তায় নিয়ে পেটায়।

এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে আহত যুবক অভিযোগ দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত যুবক জানায়, খোকসা উপজেলা সদরের খোকসা আধুনিক প্রাইভেট হাসপাতালে সন্তানসম্ভবা শিউলি খাতুনকে ভর্তি করা হয়। ঈদের রাতেই প্রসূতির সিজার অপারেশনের সিদ্ধান্ত জানায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। অপারেশন ব্যয় ৫ হাজার টাকা মিটমাট করা হয়।

শুক্রবার বিকালে ছাড়পত্র দেয়ার সময় অপারেশন ব্যয় বাবদ প্রসূতির ভাইয়ের কাছে ৮ হাজার টাকা দাবি করা হয়। রোগীর লোকজন অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা দিতে অস্বীকার করেন। দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্লিনিক মালিক ও তার লোকজন রোগীনির ভাই কলেজছাত্র রবিউল ইসলামের ওপর আক্রমণ করে।

এ সময় তিনি ক্লিনিক থেকে দৌড়ে রাস্তার চলে আসে। সেখানেই কাঠের বাটাম দিয়ে বেধড়ক মারপিট করা হয়।

আহত রবিউল পাংশা উপজেলার সাজুরিয়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে। তার বোন প্রসূতি শিউলি খাতুন উপজেলার বিলজানি গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী।

আহত রবিউল ইসলাম জানান, বোনের সিজার বাবদ তার সঙ্গে ক্লিনিক মালিক হারুনের ৫ হাজার টাকা মিটমাট হয়। কিন্তু শুক্রবার বিকালে বিল পরিশোধ করতে গেলে প্রসূতি ও নবজাতকের ছাড়পত্র আটকে ৮ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এই ঘটনাটি সে তার পরিবারের লোকজনকে ফোনে জানালে ক্লিনিক মালিক ও তার ভাই তার ওপর চড়াও হয়।

তিনি জানান, প্রাণভয়ে তিনি ক্লিনিক থেকে দৌড়ে প্রধান রাস্তায় আশ্রয় নেয়। সেখানই তার ওপর কাঠের বাটাম দিয়ে মারপিট করা হয়। তিনি ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

ক্লিনিক মালিক হারুন জানায়, বিলের টাকা নিয়ে না। ওই ছেলে ক্লিনিকের চেম্বারের মধ্যে আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। তাকে মারা হয়নি বলে দাবি করেন ক্লিনিক মালিক। তবে তিনি বলেন, ক্লিনিক থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় রবিউলের হাতে একটু জখম গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিককল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান বলেন, আহত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়টি থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।