অতি সুন্দর কিন্তু অস্বচ্ছ আমাদের এই বাংলাদেশ!

প্রকাশিত: ৮:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২০ | আপডেট: ৮:০৭:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২০
রেথিউল করিম তুষার মৃর্ধা

আমাদের দেশের মানুষগুলোর মন অনেক সুন্দর। বঙ্গবন্ধুর মনে অনেক স্বপ্ন ছিল এই সুন্দর মনের মানুষগুলোকে নিয়ে। হতদরিদ্র এই মানুষগুলোর দরিদ্রতা দূর করে অর্থনৈতিক সাফল্য এনে দিবেন তাদের জীবনে। বাংলাদেশের মানুষ হবে আত্মনির্ভরশীল জাতি।

এভাবেই অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটাতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু বাঙালি জাতির মধ্যেও কিছু কুৎসিত মনের লোক ছিল যারা স্বাধীনতাকে মেনে দিতে পারেনি। যাদের কারণে বঙ্গবন্ধুকে প্রাণ দিতে হলো সপরিবারে। দেশে না থাকার কারণে বেঁচে গেলেন বঙ্গবন্ধুর দুই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আজও চেষ্টা করে যাচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তবে একটা কথা সবারই জানা প্রয়োজন যে, বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল সেই মোস্তাক রশিদ ফারুক হুদাসহ কুচক্রী মহল তারা অনেকে বেঁচে না থাকলেও তাদের বীজ কিন্তু এখনো এদেশে রয়ে গেছে। তাইতো ঐ কুচক্রী মহলের সহযোগিতায় শাহেদের মত প্রতারক, ডক্টর সাবরিনা আরিফ এর মত অর্থলোভী, জিকে শামীমের মত টেন্ডারবাজ মাফিয়া এবং পাপিয়ার মত উচ্চমহলের পতিতা সুকৌশলে দলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং সরকারকে বিতর্কিত করে তুলছে।

অথচ, দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সারা জীবন দল করে এবং রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের রক্ত ঝরায়ে দলকে ক্ষমতায় এনেছে। কিন্তু তাদের জীবনে অর্থনৈতিক সাফল্য আসেনি। তাদের কোনো এমপি-মন্ত্রীদের সাথে ফটোসেশনও করা নেই। কোনো এমপি-মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে গিয়ে একটু সুপারিশ করিয়ে আনাও তাদের জন্য দুঃসাধ্য ব্যাপার। এটাই বাস্তবতা!

অথচ, শাহেদের মত প্রতারক খারাপ মানুষ গুলোর এতই বিচক্ষণতা যে; স্বনামধন্য সাংবাদিক মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ অনেক প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রীদের সাথে ফটোসেশন করে সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে।

এদেশের নিরীহ জনগণের সাথে ডাক্তার সাবরিনা আরিফ ও শাহেদরা যে অন্যায় করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য। পৃথিবীকে আজ গ্রাস করেছে করোনা নামক মহামারী ভাইরাস। আর ডাক্তার সাবরিনা আরিফ এবং শাহেদ সেই ভাইরাসের ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করে দেশের সরকার ও জাতির সাথে কঠিন শাস্তি যোগ্য প্রতারণা করেছে। ইতিমধ্যে ডাক্তার সাবরিনা এবং সাহেদ দু’জনেই গ্রেফতার হয়েছে। তাদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত। তাহলে হয়তবা যে সকল সাধারণ নাগরিক রিজেন্ট হাসপাতালসহ অন্যান্য যে সকল ভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্রের কাছে ভুয়া তথ্যের শিকার হয়েছে, তাদের মনে কিছুটা হলেও শান্তি আসবে।

 

লেখক : রেথিউল করিম তুষার মৃর্ধা
সম্পাদক ও প্রকাশক, ঢাকা কনভারসেশন।

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ টুডে এবং বাংলাদেশ টুডে-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)