অনলাইনে অর্ডার করলেন বিড়াল, পেলেন বাঘের বাচ্চা!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০ | আপডেট: ৫:১৮:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০

একটি অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখে শখ হয়েছিল সাভানা বিড়াল পোষার। আফ্রিকার বাসিন্দা, সার্ভাল প্রজাতির বন্য এবং গৃহপালিত বিড়ালের সংমিশ্রণ এই সাভানা বিড়াল। এদের পা সাধারণত লম্বা হয়, কান বড়, শরীর ছিপছিপে, গায়ে কমলা-খয়েরি রঙ মেশানো লোমের ওপর কালো বিন্দু, অনেকটা চিতার মতো।

সেই মতো ৬ হাজার ইউরো খরচ করে অনলাইনে এই বিশেষ প্রজাতির বিড়ালছানা কেনার জন্য অর্ডারও দিয়েছিলেন ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাংশের বন্দর অঞ্চল নর্ম্যান্ডির লা হার্ভে শহরের বাসিন্দা এক ফরাসি দম্পতি। কিন্তু কেনার এক সপ্তাহ পর তারা বুঝতে পারেন, সেটি আসলে তিন মাস বয়স্ক একটি সুমাত্রার বাঘের ছানা।

সাভানা প্রজাতির বিড়াল সাধারণ বিড়ালের চেয়ে কিছুটা লম্বা হয়ে থাকে। তাদের কান বড় থাকে এবং শরীর ছিপছিপে হয়। আর গায়ে কমলা-খয়রি রঙের উপর কালো কালো বিন্দু দেখা যায়। এতে করে বিড়ালটি দেখতে অনেকটা চিতা বাঘের মত মনে হয়।

সাভানা বিড়ালের বদলে ফ্রান্সের দম্পতিদের কাছে যখন চিতা বাঘের বাচ্চা পাওয়া যায় তখন স্থানীয় পুলিশ তাদেরকে ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, ওই দম্পতি যাদের কাছ থেকে সাভানা বিড়ালের বাচ্চা ক্রয় করতে চেয়েছিলেন তারা মূলত পশু পাচারকারী দলের সদস্য এবং সাভানা নামের বিরল প্রজাতির বিড়ালের বদলে তারা একটি চিতাবাঘের বাচ্চা ডেলিভারি করে ফেলে।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ফরাসি দম্পতি নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং পশু পাচারকারী দলের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়।

সংবাদ মাধ্যমে আরো জানা যায়, চিতাবাঘের বাচ্চাটি সুস্থ আছে এবং সেটি ফরাসি দম্পতির কাছ থেকে নিয়ে সংরক্ষিত জায়গা স্থানান্তরিত করা হয়।

এর আগে চিতাবাঘের বাচ্চাটাকে ভালো করে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ফ্রান্সের বায়ো ডাইভারসিটির গবেষণা বিভাগে পাঠানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগ থেকে নিশ্চিত করা হয় এটি বিড়াল নয় বরং এটি চিতাবাঘের বাচ্চা এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছে।