অপরাধ করলেই এনকাউন্টার : তেলাঙ্গানার মন্ত্রী

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৪১:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯

ভারতের ধর্ষকদের হায়দরাবাদে এনকাউন্টার নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে। বিচার বহির্ভূতভাবে অভিযুক্তদের এনকাউন্টার করাটা কতটা নৈতিকতার কাজ, এ প্রশ্নে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একাধিক মানবাধিকার সংগঠন তো বটেই, তেলেঙ্গানা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের অনেকেও এই এনকাউন্টারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এক কথায়, এনকাউন্টারের পর বেশ চাপে হায়দরাবাদ পুলিশ।

এবার পুলিশের পাশে এসে দাঁড়ালেন খোদ রাজ্যের মন্ত্রী। সাফ জানিয়ে দিলেন, অন্যায় করলেই এই ধরণের এনকাউন্টার হবে। এটা অন্যায় রুখতে সরকারের প্রতিশ্রুতি। খবর: এনডিটিভি।

গতকাল শনিবার তেলাঙ্গানার একটি টেলিভিশন চ্যানেলে শ্রীনিবাস বলেন, এটা একটা শিক্ষা। কোনো খারাপ কাজ করলে তিনি আদালত বা জেল থেকে সুবিধা বা পরবর্তীকালে জামিন পেতে পারেন না। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটবে না। আমরা এই বার্তা দিয়েছি যে, এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করলে এনকাউন্টার হবেই।

এনকাউন্টারের বিরোধিতায় সরব বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। মন্ত্রী শ্রীনিবাস সমালোচনা করেছেন তাদেরও। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, একটা শক্তিশালী বার্তা দিয়েছি আমরা। সারা ভারতের জন্য আমরা আদর্শ তৈরি করেছি। আমরা শুধু সামাজিক উন্নয়ন নয়, আইনের ক্ষেত্রেও আমরা একটা মডেল তৈরি করেছি।

তেলাঙ্গানায় তরুণী চিকিৎসককে গণধর্ষণ ও পুড়িয়ে মারায় চার অভিযুক্তকে এনকাউন্টারে হত্যা নিয়ে তোলপাড় চলছে। অনেকেই পুলিশকে সমর্থন করে প্রশংসা করছেন আবার অনেকেই সমালোচনা করছেন। পুলিশের এনকাউন্টার তত্ত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যেমন সন্দেহের অবকাশ রয়েছে, তেমনই ধর্ষণ-খুনের অভিযুক্তদের এনকাউন্টারে হত্যা করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও নানা মহল থেকে উঠে আসছে প্রশ্ন।

এমনকি, ভারতের প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদেও এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার নিন্দা করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে তেলাঙ্গানার মন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেও মনে করছেন অনেকে।

গণধর্ষণ ও পুড়িয়ে হত্যা থেকে শুরু করে পুলিশের অভিযোগ না নেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত এনকাউন্টার— পুরো পর্বে বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী কেসিআর। এমনকি, চিকিৎসককে গণধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে পুরো রাজ্য যখন প্রায় উত্তাল, তখন একটি বিয়ে বাড়িতে গিয়ে গদগদ চিত্তে সংবাদমাধ্যমে তার ছবি তোলা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রী শ্রীনিবাস সেসব সমালোচনা উড়িয়ে বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীকে এর মধ্যে টেনে এনে লাভ নেই। কারণ, বহু মানুষ এই ঘটনাকে (এনকাউন্টার) সমর্থন করেছেন।