অবশেষে টনক নড়ল ইসির

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৫৪:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৮
সংগৃহীত

একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মহড়ায় মানুষের দুর্ভোগ পোহানোর পর অবশেষে পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আচরণবিধি প্রতিপালনে ব্যবস্থা নিতে উপজেলায় একজন করে নির্বাহী হাকিম নিয়োগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সোমবার চিঠি পাঠিয়েছেন ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান।
সেই সঙ্গে তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ব্যক্তির মিছিল-মহড়া বন্ধে পুলিশকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরগরম হয়ে উঠছে রাজনীতির মাঠ, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়গুলো। ভোটের কাজে প্রথম নেমে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ শুক্রবার থেকেই মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মিছিল নিয়ে মহড়া দিয়ে সড়ক আটকে ফরম নিতে ও জমা দিতে আসেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়কেন্দ্রিক এই কার্যক্রমের কারণে সেদিন থেকে সোমবার পর্যন্ত দুর্ভোগ পোহাতে হয় রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসিন্দাদের। সোমবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়া শেষ হওয়ার দিন বিএনপি তাদের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে: ফলে নয়া পল্টন এলাকায়ও দেখা দিয়েছে একই রকম জনদুর্ভোগ।
এর মধ্যেই ইসি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিল।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক দলের ফরম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থী ও সমর্থকদের মিছিল-শোভাযাত্রার বিষয়টি নজরে এসেছে কমিশনের। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আচরণবিধি লঙ্ঘন।

এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইতোমধ্যে বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ইসির অধীনে থাকবে। যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

তফসিল অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বর প্রতীক পাওয়ার পর দিন থেকে প্রচারে নামতে পারবেন প্রার্থীরা। তার আগে কোনো প্রকার প্রচার, মিছিল, মহড়া চালানো যাবে না। আচরণবিধিতে বলা হয়েছে- “কোনো বাস, ট্রাক, মোটর সাইকেল, নৌযান, ট্রেন বা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহনসহ মিছিল কিংবা কোনোরূপ শোডাউন করতে পারবে না।”

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও কোনো ধরনের মিছিল করা যাবে না। জনগণের চলাচল বিঘ্ন করে এমন কোনো সড়কে জনসভা বা পথসভা করা যাবে না।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে ৫ জনের বেশি ব্যক্তিতে নিয়ে আসায়ও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ব্যক্তিকে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার জরিমানা এবং সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসির রয়েছে।
রাজনৈতিক দল বিধি লঙ্ঘন করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

জনপ্রশাসন সচিবের কাছে লেখা চিঠিতে ইসির যুগ্মসচিব জানান, মোবাইল কোর্ট আইনের আওতায় আচরণবিধি প্রতিপালনে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী হাকিম নিয়োগের জন্য ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় ভোটের পরের দিন পর্যন্ত তারা নিয়োজিত থাকবেন।

প্রতিটি উপজেলায় একজন, সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি ৩ থেকে ৪টি ওয়ার্ডের জন্য একজন, সিটি করপোরেশন ছাড়া জেলা সদরে প্রতি পৌর এলাকায় এক থেকে দু’জন এবং পার্বত্য এলাকায় ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি অবস্থিত ৩ থেকে ৪টি উপজেলার জন্য একজন করে নির্বাহী হাকিম থাকবে।

সংসদ নির্বাচনে ৬৪ জেলায় ৩০০ আসনে ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা (বিভাগীয় কমিশনার ২ জন ও ৬৪ জেলা প্রশাসক) এবং ৫৭৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) নিয়োগ করা হয়েছে।

জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ সোমবার শেষ হয়েছে। অন্যদিকে সোমবার থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। জাতীয় পার্টির ফরমও বিতরণ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে এমন নির্দেশনা দিতে যাচ্ছে ইসি।