অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই নান্দাইলের নার্গিস আজ সাবলম্বী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১ | আপডেট: ৯:১৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২১

অরবিন্দ পাল, নান্দাইল সংবাদদাতা: নান্দাইল সদর থেকে দেওয়ানগঞ্জের দিকে যেতে পাঁচরুখি বাজারে পৌছানোর আগেই সড়কের বাম দিকে একটি দোকান চোখে পড়বে মেয়েদের জুতো এবং মহিলাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্রে ঠাসা। আরও একটু কৌতুহলি হলে দেখা যাবে এর দোকানী একজন মহিলা। ফুটফুটে এক সন্তান কোলে করে জিনিসপত্র বিক্রি করছে এক মা। নাম নার্গিস আক্তার (২৫) এক উদ্যমী নারী। যিনি তার অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই আজ সাবলম্বী। বেশিদিন আগের কথা নয়।

২০১২ সালেও গার্মেন্টসএ চাকুরি করতেন নার্গিস। কত আর বেতন ৬ -৭ হাজার টাকা। এভাবেই চলছিল তার। বাড়িতে বাবার কাছে কিছু টাকা পাঠানো এবং ওখানে থাকা-খাওয়া শেষে কিছুই আর থাকতো না হাতে।

সেখানে পরিচয় হয় গার্মেন্টস কর্মী একই উপজেলার শেরপুর গ্রামের সবুজ মিয়ার সাথে। নার্গিসের বাবার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল ইউনিয়নের সাভার গ্রামে। পরিচয়সূত্রে পরিণয়। বিয়ে করেন তারা পারিবারিক সম্মতিতেই। দু’জনে চাকুরি করেও কিছুতেই পেরে উঠছিলেন না তারা। পরিবারের অন্যান্য সদস্যের কথা চিন্তা করে একসময় সিদ্ধান্ত নেন নিজের এলাকাতেই চলে আসবেন এবং এলাকাতেই কিছু করবেন।

বছর আটেক আগের কথা। কিভাবে কি করবেন ভেবে পেরে উঠছিলেন না তারা। অবশেষে এগিয়ে আসেন নার্গিস। ছোট একটি ভাড়া করা দোকান নিয়ে বসে পড়েন অজ পাড়াগায়েই। নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় শিশু-মহিলাদের পোশাক বানানো শুরু করেন। বাড়িবাড়ি গিয়ে অর্ডার নিয়ে আসেন মহিলাদের কাছ থেকে। এতে ভাল আয় হতে থাকে।

মাত্র ৮৩ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। আয়ের উৎস একটি সেলাই মেশিন আর তার অভিজ্ঞতা। আস্তে আস্তে দোকানে মহিলাদের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাপড়, জুতো প্রসাধনীসহ এনে বিক্রি করতে থাকেন।

এ কাজে সাহায্য করেন তার স্বামী । জুতো- কাপড়সহ অন্যান্য মেয়েদের জিনিসপত্র পাইকারি কিনতে চলে যান ভৈরব বাবুরহাটে। এতে করে প্রতিযোগিতামূলক দামেও জিনিসপত্র বিক্রি করতে পারেন তারা। দোকানের অধিকাংশ ক্রেতা মহিলা। কিভাবে ড্রেস বানাতে হয় এসব শেখাতে শুরু করেন তিনি। কেউ শিখে টাকা দেন। শেখানো বাবদ টাকা নেয়ার নির্দিষ্ট কোন রেইট নেই তার। এলাকায় নার্গিসের এ রকম কাজের কথা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক মেয়ে গৃহিনী নার্গিসের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। গ্রামের অনেক মেয়েদের পোশাক তৈরি করা শিখিয়েছে সে এ ধারণাটি তারই। এমন একজন গৃহিনী আছমা (২৫) আগ্রহ নিয়েই নার্গিসের কাছে ড্রেস বানানো শিখছে। আছমা বলেন- “এই গ্রামের অনেকেই নার্গিসের কাছে শিখছে, আমিও শিখতাছি, আমার পরিবারের পোলাপাইনের কাপড়চোপড় তো বানাইতে পারবাম।”

এক বছরের মধ্যেই কিস্তিতে একটি সিএনজি কিনে দেন স্বামীকে। তিনি এটি কিছুদিন ভাড়ায় খাটিয়ে বিক্রি করে নান্দাইল বাজারের একটি অভিজাত মার্কেটে দোকান দিয়েছেন এখন। এ দোকানের ডেকোরেশন খরচ হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ টাকা। নার্গিসের স্বামী সবুজ মিয়া বলেন আমরা অনেক কষ্ট করেছি। নার্গিস সব ব্যাপারেই এগিয়ে এসেছে।

২ ছেলে ১ মেয়ের জননী নার্গিস বলেন, “আমরা আল্লাহর রহমতে আমরা সুখেই আছি, এলাকার মহিলারা আমার কাছে কিছু শিখতে পারছে বিষয়টা আমার অনেক ভাল লাগে।”