অর্থ আসলেই সুখ কিনতে পারে: গবেষণা

প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০ | আপডেট: ৯:৩৩:অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

পাঠ্যবইয়ে একটা ভাবসম্প্রসারণ রয়েছে- ‘অর্থই অনর্থের মূল। তবে সুখের সঙ্গে অর্থের যোগসূত্র রয়েছে। অর্থ দিয়েই সুখ কেনা যায় বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

১৯৭২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৪৪ হাজার ১৯৮ জন পূর্ণ-বয়স্কের বেশি মানুষের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল সোস্যাল সার্ভের (জিএসএস) চালানো গবেষণার ফল হিসেবে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। যা গত সপ্তাহে ইমোশন সাময়িকীতে প্রকাশ হয়েছে।

ওই লেখার শিরোনাম ছিল ‘কয়েক দশক ধরে চালিয়ে আসা এই গবেষণার ফল সুখের বিস্তৃত শ্রেণি বিভাজন।’

এতে উল্লেখ করা হয়, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষের আয় বেড়েছে। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক সুখের পারদ বছরের পর বছর বেড়েছে।

আফ্রিকান এবং আমেরিকানদের ক্ষেত্রে সুখ বিভাজনের এ গবেষণার ফলে ভিন্নতা দেখা গেছে। তবুও অর্থের সঙ্গে সুখের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতিফলন রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, কলেজ শিক্ষা নেই এমন কৃষ্ণাঙ্গদের সুখের মাত্রা ১৯৭২ সাল থেকে স্থির রয়েছে। অন্যদিকে কলেজ শিক্ষা পেয়েছেন এমন কৃষ্ণাঙ্গদের সুখ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে শিক্ষার মাধ্যমে সুখ ক্রমান্বয়ে বেড়েছে বলে মনে করেন জরিপে অংশগ্রহণকারী শেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গরা।

অর্থ সুখ কিনতে পারে না বলে যে প্রবচন রয়েছে- এই গবেষণা সেটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে; যা অন্যান্য গবেষণাও সমর্থন করে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়, ৭৫ হাজার ডলারের বেশি উপার্জন বৃদ্ধি পেলেও তা ব্যাপক সুখের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।

তবে জেনারেল সোস্যাল সার্ভের জরিপে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছে, প্রিন্সটনের গবেষণার সঙ্গে সেই প্রশ্নের ভিন্নতা রয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জিএসএস জানতে চায়, সবকিছু মিলে আপনি এখনকার বিষয়গুলোকে কীভাবে বর্ণনা করবেন? আপনি কি বলতে পারেন যে, আপনি খুবই সুখী, যথেষ্ঠ সুখী অথবা বেশি সুখী নন। এসব প্রশ্নের উত্তর গত কয়েক দশক ধরে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের উপার্জনের ভিত্তিতে নিয়েছে জেএসএস।

গবেষণার প্রধান লেখক জিন টোয়েঞ্জ মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, আগের দশকের চেয়ে বর্তমানে সুখের সঙ্গে উপার্জনের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, আকাশচুম্বী রিয়েল স্টেট ব্যবসা, শিক্ষা ব্যয় বহন না করতে পারাই নিম্ন-আয়ের মানুষের সুখ কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট।