অস্ট্রিয়ায় ইসলাম নির্মূলে যা করা হচ্ছে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৫১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮

মধ্য ইউরোপের খৃষ্টান প্রধান দেশ অস্ট্রিয়ায় দেশটির সরকার শিশুদের স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। কিন্টারগার্ডেন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করতে চায় অস্ট্রিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার।

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বর্তমান অস্ট্রিয়া সরকার হিজাব নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে খৃষ্টান রক্ষণশীল অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি এবং ডানপন্থী পপুলিস্ট ফ্রিডম পার্টি জোট বেধে সরকার গঠন করে।

অবাক করার বিষয় হচ্ছে, ডানপন্থী এই সরকারের প্রধান ব্যক্তি অস্ট্রিয়ান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ মুসলিম কিন্টারগার্ডেন বন্ধ করে দিতে মত প্রকাশ করলেও অন্যান্য ধর্মের কিন্টারগার্ডেনে তার সরকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা করছে।

হিজাব নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে অস্ট্রিয়ার বিরোধীদল ‘সোসাল ডেমোক্রেটস’ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেউ বলেছেন, হিজাব নিষিদ্ধ করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ।

আবার কেউ বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ১০ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৪ বছরের মেয়েদের পর্যন্ত করা দরকার।

অস্ট্রিয়ার ভাইস চ্যান্সেলর আরো একধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেছেন, সব বয়সী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেই হিজাব নিষিদ্ধ করা উচিত।

হিজাব নিষিদ্ধের এই প্রচেষ্টা সরকারের বেশ কিছু সামাজিক অবিচারমূলক কাজের প্রতিক হয়ে আছে। এগুলোর মাধ্যমে সরকার ভোটারদের দ্বিধাবিভক্ত করার চেষ্টা করছে।

তবে অস্ট্রিয়াতে হিজাব নিষিদ্ধ করা সহজ হবে না। কারণ অস্ট্রিয়া বিশ্ব মানবাধিকার ঘোষণা গ্রহণ করেছিল।

এছাড়া, ১৯১২ সালে ‘ইসলাম এ্যাক্ট’ করা হয়েছিল। এই এ্যাক্ট অনুযায়ী মুসলিমরা সব বয়সেই হিজাব পরার অধিকার পায়।

এই সরকার যখন তাদের নীতি ঘোষণা করেছিল, তখন বেশ ভালো অবস্থানে ছিল। কিন্তু হিজাব নিষিদ্ধ এখন কার্যকর করতে চাইলেও সরকার বর্তমানে বেশ দুর্বল অবস্থানে আছে।

সরকার যখন বুঝতে পেরেছে যে, হিজাব নিষিদ্ধের এ্যাক্ট পাশ করা সহজ হবে না তখন বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে সেটা করতে চেষ্টা করছে।

অস্ট্রিয়ার ৯টি প্রদেশের প্রাদেশিক সরকারকে হিজাব নিষিদ্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশনা দিয়েছে। শীঘ্রই সরকার ঘোষণা করতে যাচ্ছে, হিজাব নিষিদ্ধ না করলে কেন্দ্রীয় সরকার ফেডারেল বা প্রাদেশিক সরকারকে কোন অর্থ দিবে না।

কেন্দ্রীয় সরকারের এমন সিদ্ধান্তে সব প্রদেশের গভর্নর একমত নন। সরকারী দলের গভর্নরের পক্ষ থেকেও বিরোধীতা এসেছে। তারা হিজাব নিষিদ্ধ সংবিধান সম্মত কি না সে ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে সরকারী জোটের দুই দলই ক্ষমতায় আসার পূর্বে নির্বাচনী প্রচারণায় ইসলাম বিরোধী নানান অঙ্গীকার করেছিল। দল দুটি মনে করছে, সেই সব প্রতিশ্রুতি পূরণের স্বার্থে মুসলিমদের ওপর কঠোর হতে হবে।

কেন্দ্র সরকার ঘোষণা করেছিল, ইসলামী কিন্টারগার্ডেনে অর্থায়ন বন্ধ এবং হিজাব নিষিদ্ধ করতে সকল প্রাদেশিক সরকার রাজি হয়েছে।

কিন্তু অস্ট্রিয়ার ‘ভিয়েনা প্রদেশ’ এর সোসাল ডেমোক্রেট সরকার এধরণের কোন চুক্তি বা সমঝোতা কেন্দ্র সরকারের সাথে হয়নি বলে দাবি করেছে।

তবে সরকারের ভাইস চ্যান্সেলর বলেছেন, হিজাব নিষিদ্ধ করে সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে না। এই বিতর্ক কোন হালকা কারণে হচ্ছে না।

‘মূলত ধর্মীয় রাজত্ব থেকে হিজাব উঠিয়ে দিতে এটা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। কিন্তু এতে সংবিধানের উল্লেখিত ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে না।’

এদিকে অস্ট্রিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলেছেন, এই ছোট বয়সেও হিজাব পরিধান করা আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ।

অবশ্য মুসলিম কমিউনিটির শক্ত নেতৃত্ব তাদের ওপর কঠোর হওয়া প্রসঙ্গে সরকারকে পরাজয় বরণ করাতে পারে।

লেখক: ফরিদ হাফিজ, তুর্কি অধ্যাপক।
তুরস্কের জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম ডেইলি সাবাহ’য় `Austria’s next Islamophobic policy: Banning the hijab in kindergarten’ শিরোনামে প্রকাশিত কলাম অবলম্বনে।