‘অস্বাভাবিক হারে’ বাড়ছে সরকারের ঋণ

টিবিটি

নিউজ ডেস্ক


ডিসেম্বর ৬, ২০১৯ | ২১:৪৫:অপরাহ্ণ | আপডেট: ২১:৪৫:অপরাহ্ণ

বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংকের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা ব্যাপক হারে বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ১২ মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। কিন্তু সরকার গত ৫ মাসেই ঋণ নিয়েছে ৪৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯২ শতাংশই পূর্ণ হয়ে গেছে।

এর ফলে চাপ বাড়ছে বেসরকারি খাতের ওপর। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে ঋণ নেয়ার পরিমাণ সোয়া লাখ কোটিতে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। যা বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সরকারি ঋণের বিপরীতে উল্টো চিত্র বেসরকারি ঋণে। ঋণ প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে বেসরকারি খাতগুলোতে। গত নভেম্বরে মাত্র ১০.০৪ শতাংশ বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর এটি গত ৭ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘বেসরকারি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার কারণ বেশির ভাগ ব্যাংকেরই এখন টাকার সঙ্কট রয়েছে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণে ধীরে চলো নীতিতে রয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বেশিরভাগ ব্যাংকই শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বন্ধ করেছে। এছাড়াও খেলাপি ঋণের আধিক্য ও তারল্য সংকটও অন্যতম কারণ।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের জিডিপিতে ধস নামারও আশঙ্কা করছে অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, ‘ঋণ কমিয়ে আনতে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। বাদ দিতে হবে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো। বিনিয়োগ বাড়াতে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে হবে। নতুবা ভারতের মতো বাংলাদেশের জিডিপিতে ধস নামতে পারে।

জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ দেয়া যাচ্ছে না। এমনকি চলতি মূলধনও চাহিদা অনুযায়ী জোগান দেয়া যাচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ হলো আমানত প্রবাহ কমে যাওয়া। কাক্সিক্ষত হারে আমানত না পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমনি পরিস্থিতিতে সরকারের বাড়তি ঋণের জোগান দিতে হচ্ছে। এতে বেসরকারি ঋণের ওপর চাপ বেড়ে যাচ্ছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অনুয়াযী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। রাজস্ব আদায় কমে যাচ্ছে। অন্য দিকে টিআইএন বাধ্যতামূলক করায় সঞ্চয়পত্র বিক্রিও কমে গেছে। কিন্তু সরকারের ব্যয় কমছে না, অর্থাৎ ব্যয় ঠিকই হচ্ছে। আর এ ব্যয় ঠিক রাখার জন্য ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বেশি মাত্রায় ‍ঋণ নিতে হচ্ছে।’

দীর্ঘ দিন ধরেই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে জানিয়েছে এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ বলেন, সরকার বেশিমাত্রায় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করলে বেসরকারি ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার মাত্রা আরও বেড়ে যাবে। আর বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমতে থাকলে বর্ধিত হারে কর্মসংস্থান হবে না। এতে বেকারত্বের হার অনেক বেড়ে যাবে।’

সঞ্চয়পত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করায় সঞ্চয়পত্র থেকেও আগের মতো ঋণ পাচ্ছে না সরকার। এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের মুনাফায় ১০ শতাংশ কর আরোপ করায় এই খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারিরা। ফলে এই খাত থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ কমেছে। এ কারণে ঋণের জন্য ব্যাংকের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা বাড়ছে।

এই বিভাগের সর্বশেষ