অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে মৃত্যু বাড়বে করোনার চিকিৎসায়

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০ | আপডেট: ১১:৫৫:পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০

কোভিড-১৯ ভাইরাস মোকাবেলায় যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে। এই ওষুধ প্রয়োগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

জাতিসংঘের আওতাভুক্ত এই সংস্থার দাবি,অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে শরীরে ব্যাকটেরিয়ার টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে চলমান এই সংকটে ও পরে বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

ডব্লিউএইচও’র প্রধান তেদ্রোস আধানম জেনেভায় ডব্লিউএইচও’র প্রধান কার্যালয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাধারণত ব্যাকটেরিয়াজাত সংক্রমণ দমনে যেসব ওষুধ ব্যবহৃত হয় সেসবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকে থাকতে সক্ষম ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা ‘উদ্বেগজনক হারে’ বেড়ে গেছে। এর মধ্যে করোনাভাইরাস সংকটে কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসায় অহেতুক অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ এই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে চলমান এই মহামারির সময় এবং এর পরে রোগ ও মৃত্যুর বোঝা বাড়াবে।

ডব্লিউএইচও বলছে, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের হুমকি মোকাবেলায় মাত্র কিছু সংখ্যক কোভিড -১৯ রোগীর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন।

সংস্থাটি চিকিৎসকদের জন্যে ইস্যু করা দিকনির্দেশনায় যে সকল লোকের কোভিড -১৯ এর মৃদু উপসর্গ কিংবা অল্প অসুস্থতা রয়েছে তাদেরকে অ্যান্টিবায়োটিক না দেয়ার কথাই বলেছে।

টেডরস বলছেন, নির্দেশনায় জীবন রক্ষায় জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠেকানোর কাজে সহায়তার কথা বলা হয়েছে। তিনি জীবাণুর প্রতিরোধক্ষমতাকে আজকের এ সময়ের সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন।

টেডরস এন্টিবায়োটিক সঠিকভাবে ব্যবহার না করার বিষটিকে তুলে ধরে বলেন, কিছু কিছু দেশে এটি বেশি বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশ যেখানে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ সহজলভ্য নয়। আর এন্টিবায়োটিকের অতিব্যবহার অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগ এবং মৃত্যুহারও বাড়াচ্ছে।

এদিকে গত ডিসেম্বরে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর অছোঁয়াচে রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

তারা বলছে, মে মাসের তিন সপ্তাহের জরিপে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও হৃদরোগীদের চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে করোনার প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে গণজমায়েতের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে কৃষাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড একজন শেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে প্রাণ হারায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এখন উত্তাল।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া শত শত লোকের কারণে ভাইরাসটির সংক্রমণ দ্রুত ছড়াবে বলেও আশঙ্কা করেছেন টেডরস।

সূত্র: এএফপি।