আইনগতভাবে নারীর স্বাস্থ্যসেবা স্বীকৃতি থাকলেও গ্রামাঞ্চলে ধারনা কম

প্রকাশিত: ৯:২৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০ | আপডেট: ৯:৩৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০

সাইফুল ইসলাম, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: নারী স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে জাতীয়, আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন আইন প্রনীত হয়েছে। এ আইনের ধারা বাস্তবায়নে রয়েছে বিভিন্ন কার্যক্রম ও কৌশল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা হচ্ছে, সার্বিকভাবে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ভাল থাকা বোঝায়। কেবল রোগের অনুপস্থিতিকে বোঝায় না। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সংক্রান্ত আর্ন্তজাতিক সনদে রাষ্ট্রের করণীয় সম্পর্কে বলা আছে। শিশু মৃত্যু ও মৃত সন্তান প্রসবের সংখ্যা হ্রাসের লক্ষ্যে ও শিশুর সুস্থ্য বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বরাদ্দ। অসুস্থ্য অবস্থায় চিকিৎসা সেবা ও চিকিৎসকের মনোযোগ নিশ্চিত করার জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা।

প্রজনন স্বাস্থ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যের সংজ্ঞা অনুসারে,সাধারণভাবে নিরাপদ গর্ভধারণ ও জন্মদানের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা এবং জন্ম নিয়ন্ত্রনের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও নির্ভরশীল, সুলভ, গ্রহনযোগ্য ও সহজপ্রাপ্য পদ্ধতিকে বোঝায়। ১৯৯৪ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত কর্মসূচি এবং পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে বেইজিং-এ অনুষ্ঠিত ৪র্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনের ঘোষণার মাধ্যমে মূলত: নারীর স্বাস্থ্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার বিবেচ্য হয়।

পরবর্তীতে নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য আলোচনায় ‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার’একটি সুনির্দিষ্ট বিবেচ্য বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
নারী স্বাস্থ্যসেবা পক্ষে আইনগুলো অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানাগেছে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুচ্ছেদ ১৫ (ক) চিকিৎসাসহ জীবনধারনের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা। রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব অনুচ্ছেদ ১৮ (১) জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য। বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাস্থ্য কেবল রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য হিসেবে স্বীকৃত, জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত নয়। ২০০৯ সালে জাতিসংঘ এর মানবাধিকার কাউন্সিলে গৃহীত প্রস্তাবে প্রসূতি মৃত্যুর অধিক হার ও প্রসবজনিত রোগ-ভোগ অগ্রহণযোগ্য এবং তা প্রতিরোধযোগ্য বলে ঘোষিত হয়। প্রসূতি মৃত্যুর বর্তমান হার বেঁচে থাকার অধিকারকে লঙ্ঘন করে। যা নারীর মানবাধিকার লংঘনও বটে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ হচ্ছে, বেঁচে থাকার অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অধিকার, মত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার। মর্যাদা পাওয়ার অধিকার, নিরাপত্তা পাওয়ার। অধিকার গোপনীয়তার অধিকার বৈষম্য থেকে মুক্ত থাকার অধিকার যৌন সহিংসতা থেকে সুরক্ষা পাবার অধিকার শিক্ষার অধিকারতথ্য পাওয়ার অধিকার বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দলিলমানবাধিকারের সর্বজনিন ঘোষণাপত্র এর অনুচ্ছেদ-২৫ এর (ক) এবং (খ)“জনসংখ্যা ও উন্নয়ন” বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গৃহীত কর্মসুচি’ এর নীতি-৮ নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) অনুচ্ছেদ-১২ এর (১) এবং (২) জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি ২০১১: স্বাস্থ্যনীতির মূল লক্ষ্য এর পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ধারা-১২ এর ১ জাতীয় জনসংখ্যা নীতি এর উদ্দেশ্যসমূহের ৪.২ এবং ৪.৩। অনুসন্ধান করে আরো জানাগেছে, সরকারের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নীতিমালা: জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য কৌশলপত্র ২০০১, কিশোর প্রজনন স্বাস্থ্য কৌশল ২০০৬, জাতীয় নবজাতক স্বাস্থ্য কৌশলপত্র ২০০৯,জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি ২০১১, নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১, জাতীয় জনসংখ্যা নীতি ২০১২, জাতীয় পুষ্টি নীতি ২০১৪, মাসিক নিয়মিতকরণ নীতি ১৯৭৯।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের কর্মসূচি ও উদ্যোগসমূহ হচ্ছে, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মাতৃত্বকালীন ভাতা, মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কীম স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা এবং পুষ্টি খাতের উন্নয়ন, মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য কর্মসূচি মাতৃমৃত্যু, মৃতজন্ম ও নবজাতকের মৃত্যু পর্যালোচনা কার্যক্রম, কমিউনিটি ক্লিনিক, জরুরী প্রসূতি সেবা কেন্দ্র, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের কর্মসূচি ও উদ্যোগসমূহ হচ্ছে, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কীম স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা এবং পুষ্টি খাতের উন্নয়ন, মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য কর্মসূচি মাতৃমৃত্যু, মৃতজন্ম ও নবজাতকের মৃত্যু পর্যালোচনা কার্যক্রম, কমিউনিটি ক্লিনিক, জরুরী প্রসূতি সেবা কেন্দ্র যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার। এবং জনস্বাস্থ্যকে প্রচার ও সচেতন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিবস পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জাতীয় জনসংখ্যা দিবস। প্রতি বছর ১ জুলাই জাতীয় জনসংখ্যা দিবস পালন করা হয়। তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচী মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটিতে একটি প্রতিপাদ্য বিষয় নেয়া হয়।

তৃনমূল পর্যায়ে নারী স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নে আইনগত দিক খোজ নিয়ে জানাগেছে, জাতীয় পর্যায় বেরকারি সংস্থা নারীপক্ষ কাজ করছে। উক্ত সংস্থা নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ ও নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে দেন-দরবার নিরাপদ মাতৃত্ব বিষয়ে দেশব্যাপী সচেতনতা মূলক সভা সমাবেশনারীর প্রতি স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জবাবদিহিতা তৈরীতে গবেষণানারীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজপ্রাপ্য এবং প্রাপ্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিপ্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ে নারীর সর্বজনীন অভিগম্যতা ও সেবা ব্যবস্থার রূপরেখা নিয়ে গবেষণানারীর প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন ক্ষেত্র নির্মাণসহিংসতার শিকার নারীর জন্য স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত ও ন্যায় বিচার প্রাপ্তির প্রক্রিয়া তরান্বিত করার জন্য নেটওয়ার্ক জোট এর মাধ্যমে নারী স্বাস্থ্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে।

পরিবার পরিকল্পনা মিডিয়া ফেলোশিপ-২০২০ আওতায় গ্রামাঞ্চলে নারীর স্বাস্থ্য ও প্রজনন অধিকার প্রতিবেদনের তথ্য সহায়ক হিসাবে উল্লেখিত আইনগুলো পর্যালোচনা করে গ্রামাঞ্চলে খোজ নিয়ে জানাগেছে, নারীর স্বাস্থ্য সেবায় অনেক আইন থাকলেও গ্রামাঞ্চলে নারীদের ধারনা কম। এ বিষয় নিয়ে উপজেলার ১৭ জনের সাথে কথা বললে ১৩ জন নারী তাদের স্বাস্থ্যসেবা আইন নিয়ে কোন ধারনা নেই। ২ জন নারীর স্বাস্থ্য সেবা কথা বললে তারা হচ্ছে উন্নয়ন কর্মী।

পটুয়াখালী ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজার নির্বাহী পরিচালক এইচ এম মুনসুর শাহজাহান বলেন, এ সেবা প্রদান ও গ্রহন নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন স্বপক্ষের আইন প্রনীত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন এবং প্রচারক্ষেত্রে নজর দেয়া শ্রয়। নারীপক্ষ নারী স্বাস্থ্যসেবা লক্ষ্যে দক্ষিণাঞ্চলে ৮ টি উপজেলায় এনজি ও জোট প্যাকেজ মাধ্যমে কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবা আইনগুলো সকলের জানার্থে দিবস পালন, আলোচনা সভা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা গুনগত মান বৃদ্ধি লক্ষ্যে পর্যবেক্ষন করে তা সংশ্লিষ্টদের সাথে শেয়ার করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়ে থাকে। তবে গ্রামাঞ্চলে নারীদের এ বিষয় ধারনা কম।