আইনী জটিলতায় সৈয়দ আশরাফের আসন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৩১:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

খুব সহসাই শূন্য ঘোষণা হচ্ছে না বর্ষীয়ান রাজনীতিক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদ্য প্রয়াত সদস্য ও সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আসনটি। কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-১ আসনে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য হিসেবে তাকে নির্বাচিত করেছিলেন কিশোরগঞ্জবাসী।

তার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এই আসনটির পুনঃনির্বাচনে মনোনয়ন পেতে অনেকেই জোর তদবির শুরু করেছেন। কিন্তু পুনঃনির্বাচন কখন হবে, কীভাবে হবে – তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আইনী জটিলতা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) অবশ্য সেই জটিলতা নিরসনে কাজ করছে। তবে আগামী ৩০ জানুয়ারি শুরু হওয়া একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই আসনের জনগণ তাদের প্রতিনিধিকে সংসদে দেখতে পাবেন না এটি প্রায় নিশ্চিত।

কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে দশম সংসদে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফ। মৃত্যুর সময়ও তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রী ছিলেন। তার দশম সংসদের সদস্য পদটি চলতি মাসের ২৮ তারিখে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করবে।

এদিকে সাংবিধানিক পদে থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েও তিনি জয়লাভ করেন ৩০ ডিসেম্বর। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি তার জয়ী হওয়ার গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। মৃত্যুর সময় তিনি দশম সংসদের সদস্য ছিলেন আর একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য পদেও তিনি নির্বাচিত ছিলেন।

যেহেতু তিনি শপথ গ্রহণ করেননি, তাই একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হননি। এ অবস্থায় তার আসনটি কিভাবে শূন্য হবে, তা নিয়েই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আগে কখনো এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি ইসিকে।

ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সচিবালয় এ জটিলতার কারণেই পদটি শূন্য ঘোষণা করতে পারছে না। আর এ কারণে আসন শূন্য হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা পালন নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। সংবিধানের ১২৩ (৪) দফা অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনো সদস্য পদ শূন্য হলে পদ শূন্য হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো সংসদ সদস্যের মৃত্যু হলে এ বিধানটি দ্বারাই তার আসনটি শূন্য এবং নির্বাচন করা হয়।

মৃত্যুকালীন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দশম সংসদের শপথ নিয়ে সংসদ সদস্য ছিলেন। আর একাদশ সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত ছিলেন। দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হবে আর মাত্র ১৮ দিন (২৮ জানুয়ারি) পর। কাজেই তার এ পদটি শূন্য ঘোষণা করা যাবে না। কেননা, এ পদটি শূন্য ঘোষণা করা হলে ১৯ দিনের মধ্যেই আবার নির্বাচন করতে হবে। আবার যেহেতু ১৯ দিন পর দশম সংসদ ভেঙে যাবে, তাই দশম সংসদের কোনো শূন্য পদে নির্বাচনের অর্থ হয় না। এছাড়া এতো কম সময়ে নির্বাচন করাও সম্ভব নয়। আবার একাদশ সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শপথ নিতে না পারায় তার আসনটিও শূন্য করতে পারছে সংসদ সচিবালয়ে। কেননা, সংবিধান অনুযায়ী- শপথ না নিলে কার্যভার গ্রহণ করেছে বলে গণ্য হয় না অথবা সংশ্লিষ্ট নির্বাচিত ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার ‘যোগ্য’ হন না বা ‘অযোগ্য’ বলে বিবেচিত হন।
Add Image
শপথ না নিলে আসন শূন্য হওয়ার বিষয়ে সংবিধানে ৬৭ (ক) দফায় বলা হয়েছে- সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে নব্বই (৯০) দিনের মধ্যে তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করতে অসামর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আসন শূন্য হবে। আর নির্বাচন করতে হবে আসন শূন্য হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে।

ইতোমধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে আগামী ৩০ জানুয়ারি। তাই সংবিধানের ৬৭(ক) বিধান অনুযায়ী, একাদশ সংসদের কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরো তিন মাস। এক্ষেত্রে আসনটিতে ভোট হবে আগামী জুন মাস নাগাদ।

এ অবস্থায় ইসির অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা বলছেন, এসব আইনি জটিলতা থেকে মুক্তির অন্য একটি পথ সংবিধানে খোঁজা যেতে পারে। সেটি হচ্ছে ৭১ ধারা। এখানে একই ব্যক্তি একই সময় দুই বা ততোধিক নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না, বলা আছে। কাজেই এ বিধানের স্পিরিট আমলে নিয়ে নির্বাচন কমিশন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একাদশ জাতীয় সংসদের আসনটি শূন্য করতে পারে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বিষয়টিতে কিছুটা জটিলতা আছে। কিন্তু আইনের স্পিরিট বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করতে পারে। এক্ষেত্রে তার আসনটি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের মৃত্যুর দিনই শূন্য হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।