আইনের শাসনের বাস্তব অবস্থা সাবেক প্রধান বিচারপতি ফাঁস করে দিয়েছেন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০১৮ | আপডেট: ৯:২০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০১৮

দেশে আইনের শাসনের বাস্তব অবস্থা সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি সব ফাঁস করে দিয়েছেন। আর গণতন্ত্রকে সরকার নির্বাসনে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে আমরা গণতন্ত্রকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি।

সোমবার বিকালে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষা শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে উপস্থিত বক্তারা এ কথা বলেন।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এই কনভেনশনের আয়োজন করে ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিল। এতে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি জুলফিকার আলী জুনু।

মানবাধিকারের বিষয়ে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, দেশে এখন খুন, গুম হচ্ছে। প্রতিদিন একজন গুম হচ্ছে। বিভিন্ন ঘটনায় ভৌতিক মামলা হচ্ছে। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আজ নেই। গণতন্ত্র নির্বাসনে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে আইনজীবীদের জেগে উঠতে হবে। এর বিকল্প নেই।

আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, দেশের প্রধান বিচারপতি রিফিউজি হয়ে গেছেন। সে দেশে কিসের বিচার, কিসের মানবাধিকার? মানবাধিকার তো সভ্য মানুষের জন্য।

বিচারপতিদের ওপর সরকারের বিশেষ সংস্থার প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় তিনি বলেন, আমাকে যদি কেউ পেটাত, আমি বিচারপতি হলে তখন পদত্যাগ করতাম।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে কুলাঙ্গার উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি অবসরে যাওয়ার এক বছর পর রায় দিয়ে দিলেন। যা অপরাধ। জাতি আজ একটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিমকোর্টের সাবেক বিচারপতি মীর হাসমত আলী, সমিতির সহসভাপতি গোলাম রহমান ভুঁইয়া, গোলাম মোস্তফা, তৈমূর আলম খন্দকার, সাইফুর রহমান, ইউনুস আলী আকন্দ প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে গোলাম রহমান ভুঁইয়া বলেন, আমাদের দেশে আইনের শাসন ঠিক কী পর্যায়ে আছে, সে বিষয়টি অনুমানের জন্য গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে। একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা এ দেশে একেবারেই শূন্যের কোঠায়। এটি এমন এক দেশ যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ নাগরিকদের প্রতিপক্ষ মনে করে। বর্তমান পরিস্থিতিরই যদি এ হাল হয় তবে সহজেই অনুমেয় ভবিষ্যতে কী হতে পারে? স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এতটা পথ পেরিয়ে এসে শেষাবধি যদি জাতিকে আবার পেছন দিকে দৌড়াতে হয় তাহলে কি গণতন্ত্রের অপমৃত্যু ঘটবে না?