আগামী জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে আগ্রহী ইইউ

মেহেদি মুইন মেহেদি মুইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২০ | আপডেট: ৭:২৫:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২০
ফাইল ছবি

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে আগ্রহী ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এম্বাসেডর এইচ ই রেনডি তেরিংক। বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গতকাল বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘ ‘বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক’ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযেগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। উক্ত আলোচনা সভায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েনের সবাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এম্বাসেডর এইচ ই রেনডি তেরিংক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে সম্পর্কের স্বরূপ, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রহিঙ্গা সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এইচ ই রেনডি তেরিংক বলেন, আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলাম তবে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে কেন আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষকদল পাঠাইনি এটা নিয়ে আমাদের বারবার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। আসল বিষয়টা হচ্ছে এই সময়ের মধ্যে পৃথিবীর ভিন্ন দেশগুলোতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে আর আমাদের কিছু সিমাবদ্ধতা থাকায় আমরা পর্যবেক্ষক পাঠাতে পারিনি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষ দল পাঠাতে ইইউ আগ্রহী উল্লেখ করে রেনডি তেরিংক বলেন, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। তাই আমরা একটি নির্বচানী এক্সপার্ট দল পাঠাবো। যারা দুই মাস পর্যবক্ষেন করবেন এক মাস নির্বাচনের আগে এবং এক মাস নির্বাচনের পর যাতে করে স্থানী পর্যায়েও পর্যবেক্ষন করতে পারে তবে তার মানে এটা নয় যে আমরা প্রতিটা নির্বাচন পর্যবেক্ষন করতে সক্ষম হব।

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুধু বৃহত্তম সহায়তাকারীই নয় একই সঙ্গে কিভাবে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা যায় তাছাড়াও তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য বিষয় নিয়েও তারা কাজ করছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে রেনডি তেরিংক বলেন, ইইউ বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করছে। এছাড়াও সরকার কিভাবে এই আইনটি ব্যবহার করছে তার গতিপ্রকৃতি নিয়েও তারা পর্যবেক্ষণ করছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, আমাদের দেশে দূর্নীতি রন্ধে রন্ধে ঢুকে পড়েছে যা আমাদের উন্নয়নের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা সর্বশেষ দেখিছি ক্যাসিনো নিয়ে কয়েকদিন হট্টগোল কিন্তু এখন তিন মাস পর এটা নিয়ে কোন কথা নেই।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য যে ধরনের বাকস্বাধীনতা রয়েছে তাতে তারা খুশী নয়। আর তাদের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের মধ্যে এ ধরনের যৌথ অনুষ্ঠান আরো আয়োজন করা প্রয়োজন।