আটালান্টা রূপকথা থামাল অবিশ্বাস্য পিএসজি

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০ | আপডেট: ৫:০৯:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০

শেষটা প্রায় দেখে ফেলেছিল পিএসজি। ঘড়ির কাঁটা ৯০ ছুঁই ছুঁই, তখনও আটালান্টার বিপক্ষে পিছিয়ে পিএসজি। মার্কিনিয়োস এক গোল দিয়ে সমতায় ফেরালেন দলকে। তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছে ম্যাচ। কিন্তু নাটক সব জমা ছিল শেষ সময়ের জন্যই। এরিক চুপো মটিং মিনিটখানেক পরই আরেকবার গোল করে বসলেন। তাতে হৃদয় ভাঙল আটালান্টার। আর নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠে গেল পিএসজি।

বুধবার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে আড়াই মিনিটের জাদুতে আটালান্টাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। থ্রিলার এই জয়ে একটি গোলও করতে পারেননি নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবু শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরার চোখ খুঁজে নিল এই মানিকজোড়কে। পিএসজি যে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন করেছে সেটার মূল নায়ক তারাই!

একের পর এক গোল মিস করেছেন তাতে কী? ঠিক সময়ে শাপমোচন তো করেছেন! ১৪৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পিএসজি যে গোল দুটি করেছে দুটোরই উৎস নেইমার ও এমবাপ্পে। এজন্যই বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার তারা। ম্যাচের ৯০ মিনিটে নেইমারের অ্যাসিস্ট থেকে পিএসজিকে সমতায় ফিরিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা মার্কুইনহস।

একটু পরই এমবাপ্পের সহায়তায় জয়সূচক গোল করে বসেন চুপো-মটিংহো! অবিশ্বাস্য। পিএসজির উচ্ছ্বাস কে দেখে! নকআউট পর্বে এমন থ্রিলার ম্যাচ কে কবে দেখেছেন? খুব সম্ভবত সবশেষ থ্রিলার ম্যাচটা হয়েছিল সাত বছর আগে। সেদিন নিশ্চিত হারের মুখ থেকে ফিরে আসে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। ৭০ সেকেন্ডের জাদুতে দুই গোল করে ৩-২ ব্যবধানে মালাগাকে হারায় তারা।

পিএসজি অবশ্য একটু বেশি সময় নিয়েছে। তাতে কী! প্রবল চাপের মুহূর্তে আড়াই মিনিটেই ফরাসি জায়ান্টর বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। নিজেদের চাপে ফেলে দিয়েছিল পিএসজিই। ম্যাচের শুরু থেকেই আটালান্টার বিরুদ্ধে রক্ষণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে ফরাসি জায়ান্টরা। ইতালিয়ান ক্লাবটির আগ্রাসী ফুটবলে তাদের রক্ষণও ভেঙে পড়ে।

২৫ মিনিটে পিএসজির জাল কাঁপিয়ে আটালান্টাকে উচ্ছ্বাসে ভাসান প্যাসালিক। এরপর নেইমার দুটো সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। গোলমুখে নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন বারংবার। অবস্থা বেগতিক দেখে জাদুর সেই চাবিকাঠি বের করেন পিএসজি কোচ টমাস টুখেল। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামান সদ্যই চোট থেকে বিস্ময়করভাবে সেরে ওঠা এমবাপ্পেকে।

তিনিও নেইমারের সঙ্গে গোল মিসের মহড়ায় যোগ দিলেন। পিএসজি কোচ টমাস টুখেলের কাঁধে তখন হিমালয়তুল্য চাপ। একের পর এক খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন। তাদের একজন চুপো-মোটিং করলেন জয়সূচক গোল। ফরওয়ার্ডদের ব্যর্থতায় রক্ষণ ছেড়ে উঠে আসনে ব্রাজিলিয়ান তারকা মার্কুইনহস। যার সুফল পেল পিএসজি।

এই মৌসুমের সবচেয়ে বড় চমকের নাম ছিল আটালান্টা। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ক্লাব ফুটবল দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেয় সিরি’এ লিগের নতুন জায়ান্টরা। ঘরোয়া লিগে তারা তৃতীয় সেরা দল হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের স্বপ্নছিল বড় কিছুর। অবশেষে পিএসজির আড়াই মিনিটের জাদুতে থামল তাদের রূপকথার রথযাত্রা।

টুর্নামেন্টে অভিষিক্ত আটালান্টাকে বিদায় করে দীর্ঘ ২৫ বছর পর পিএসজি উঠল ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে। পর্তুগালের লিসবনে নেইমার-এমবাপ্পেরা মেতে ওঠেন শেষ চারের আনন্দে। ফাইনাল থেকে আর একধাপ দূরে আছেন তারা। আজ সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে। একই ভেন্যুতে শেষ আটের দ্বিতীয় ম্যাচে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ মুখোমুখি হবে আসরের আরেক চমক লাইপিজিগের।