আদালতে নেওয়া হচ্ছে ভিকারুননিসার শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:১২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ১:১২:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮
সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার খন্দকার নুরুন্নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হবে। তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এর আগে গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের হোটেল উত্তরা ইনের একটি কক্ষ থেকে হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পূর্ব জোনের একটি টিম। গ্রেপ্তারের পর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

ডিবির এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছে, ভিকারুননিসার বরখাস্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখা প্রধান জিনাত আখতারকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। আজকের মধ্যে তারা আদালতে আত্মসমর্থন না করলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ডিবির (পূর্ব) উপকমিশনার খন্দকার নুরুন্নবী জানান, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করেন গোয়েন্দারা। শিক্ষিকা হাসনা হেনার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে রাত ১১টার দিকে উত্তরায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা হয় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে।

গত সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে প্রাণ হারায় অরিত্রি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় ‘আত্মহত্যার প্ররোচণাকারী’ হিসেবে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আখতার ও শ্রেণিশিক্ষিক হাসনা হেনার বিরুদ্ধে মামলা করেন অরিত্রির বাবা। সেই মামলার তিন নম্বর আসামি হাসনা হেনা।

স্বজনদের অভিযোগ, গতকাল স্কুলের শিক্ষকরা সবার সামনে অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারীকে অপমান করেন। তাই বিষয়টি সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে অরিত্রি। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, বাবাকে অপমান নয়, বরং পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল অরিত্রি। তাই বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় লজ্জায় মেয়েটি এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

এদিকে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরে এই তিনজনকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচণাকারী’ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করেন। এর পর সন্ধ্যায় স্কুলের গভর্নিং বডির এক বৈঠকে অধ্যক্ষসহ তিনজন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়।