আফ্রিদির প্রেরণায় যেভাবে বদলে গেলেন শেহজাদ

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ১০:১৪:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

টিবিটি খেলাধুলাঃ বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের জন্য নাকি পাগল মোহাম্মদ শেহজাদ। বলিউড বাদশার কত যে সংলাপ মুখস্থ তার, তার হয়তো কোনো হিসেব নেই। দলের ড্রেসিংরুম মাতিয়ে রাখেন এসআরকে-র গরমাগরম ও মজাদার সংলাপেই।

মঙ্গলবার দীপক চাহারকে ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে পাঁচ নম্বর ওয়ান ডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে সে জন্যই বোধহয় শাহরুখ-ভঙ্গিমায় দু’দিকে দু’হাত ছড়িয়ে মুহূর্তটাকে উপভোগ করলেন আফগানিস্তানের সবচেয়ে আগ্রাসী ব্যাটসম্যান। জানা গেল, আগেও তিনি সেঞ্চুরি করে এ ভাবেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

প্রায় ৯৫ কেজি ওজন। তবু সারা দিন ধরে মাঠে পড়ে থাকার মতো অদম্য মানসিকতা তার। এই দৃঢ় মানসিকতাই তাকে প্রায় ৩৮ ওভার ব্যাট হাতে যুদ্ধ করার পরও ৫০ ওভার স্টাম্পের পিছনে গ্লাভস হাতে উইকেট সামলানোর ক্ষমতা জোগায়, বলছেন তার কোচেরা।

আফগানিস্তানের প্রাক্তন কোচ লালচাঁদ রাজপুত, যিনি জিম্বাবোয়ের কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন সদ্য, তিনি হারারে থেকে ফোনে বলেন, ‘‘শেহজাদের মতো ক্রিকেট প্রতিভা ও দেশে বিরল। চেহারা ও রকম হলেও টেকনিক ও মানসিকতায় ও ঠিক সব সামলে নেয়।’’ মঙ্গলবার শেহজাদের ইনিংস দেখেননি রাজপুত। কিন্তু স্কোর শুনে বললেন, ‘‘ভারতের মতো দলের বিরুদ্ধে এই ব্যাটিংই তো ওর দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দেয়।’’

এর আগেও প্রায় ১২৫ কেজি ওজন নিয়ে বার্মুডার ডোয়েন লেভেরককে খেলতে দেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব। তারও আগে স্থূলকায় ডেভিড বুন, অর্জুনা রানাতুঙ্গারাও ক্রিকেট দুনিয়া শাসন করেছেন। সেই ধারাই বজায় রেখে চলেছেন এ প্রজন্মের মোহাম্মদ শেহজাদ।

বিপিএল-এ রংপুর রাইডার্সে শেহজাদ যখন খেলতেন, তখন সেই দলে ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদিও। সেই দলের সহকারী কোচ ছিলেন কলকাতার অপরূপ চক্রবর্তী। তিনি জানালেন, আফ্রিদির কাছে ক্রিকেট-পাঠের চেয়ে মানসিকভাবে বেশি উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন শেহজাদ।

অপরূপ বলেন, ‘‘আফ্রিদির পরামর্শে ও প্রচুর পরিশ্রম করত। তবে মানসিকভাবে নিজেকে চাঙ্গা রাখার উপায় নিয়েই বেশি কথা হতো ওদের মধ্যে। ব্যাটিংয়ের স্টান্সেও এখন কিছুটা বদল হয়েছে ওর। দু’বছরে যে নিজেকে কতটা বদলেছে শেহজাদ, তার প্রমাণ তো পাওয়াই গেল।’’

শেহজাদের বাঙালি কোচিং সঙ্গীর মতে, ‘‘সিঙ্গলস নেয়াটা একদম পছন্দ নয় ওর। চার-ছয়েই বেশি রান তুলতে চায়। কারণ, ও জানে ওকে পঞ্চাশ ওভার কিপিংও করতে হবে। দুটি একসঙ্গে সামলানো বেশ কঠিন। এই ব্যাপারে ওর আদর্শ হলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।’’ মঙ্গলবারও দুবাইয়ে এশিয়া কাপের সুপার ফোর ম্যাচে ব্যাট করার সময় তার আদর্শ ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিংহ ধোনি তার পিছনে ছিলেন। তাই আরো উদ্বুদ্ধ হয়ে একেবারে হিসাব কষে ইনিংসটা খেলেন। সেঞ্চুরির মুখে ছিলেন অতি সাবধানী। ৭৬ বলে ৯৪ রান তোলার পরে ছ’টা রান করতে নেন আরো ১২টি বল।

সিঙ্গলসও বেশি নেননি। ১১টি চার ও সাতটি ছয় মেরে প্রায় ৭০ শতাংশ রান মাঠের বাইরে থেকে আনেন তিনি। ম্যাচের বিরতিতে তাকে টিভিতে বলতে শোনা যায়, ‘‘এখানে তিন সপ্তাহ ধরে আছি। তার আগেও এখানে অনেক বার খেলেছি। তাই দুবাইয়ের পরিবেশ, উইকেট সম্পর্কে ধারণা আছে। আজ উইকেটটা বেশ পাটা। তাই ম্যাচের আগেই ভেবেছিলাম, আজকের দিনটা আমার হতে পারে।’’

এই গরমে টানা ব্যাটিংয়ের পরে আবার টানা কিপিং! শেহজাদ বলেন, ‘‘ব্যাটিংয়ের পরে ড্রেসিংরুমে গিয়ে আইস বাথ নিয়েছি। ভালো করে গোসল করেছি। এখন একেবারে তাজা।’’