আবরারের ছোট ভাইয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস ভাইরাল

প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৯ | আপডেট: ৮:১৪:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০১৯

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ছোটভাই ফায়াজকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ফায়াজকে পুলিশ মারধর করেছে বলে জানা গেছে। বুধবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম আবরারদের বাড়ি কুষ্টিয়ায় গেলে সেখানে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। এসময় আবরারের ছোট ভাই ফায়াজসহ আহত হন তিনজন।

এসময় আবরারের ছোট ভাই ফায়াজ, তার ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রী ও আরও একজন নারী আহত হয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবরার ফাহাদের ছোটভাই ফায়াজ আবরার একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নিচে সেই স্ট্যাটাসটি ‘দি বাংলাদেশ টুডে’ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

“সত্যি আজ অবাক লাগছে,,,আমার ভাই বোকা ছিল তাই সে দেশকে ভালোবেসেছিল,,, সে যদি বুঝত তার মৃত্যুর পর ও এমন হবে তাহলে ও হয়তো ভালোবাসত,,,দেশের সব জায়গায় আন্দোলন হলেও তার এলাকা নিশ্চুপ,,,, এই স্কুলকে এত ভালোবাসত সেখানে আজকে তার মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক চূড়ান্ত নাটক হল,,,নিজেকেই ধিক্কার জানাচ্ছি আমি এই স্কুলের ছাত্র,,, লজ্জা আমি কুষ্টিয়াতে থাকি,,, লজ্জা আমি বাংলাদেশে থাকি,,,যারা ভাইকে চেনে না তারাও কিনা সমানে মিথ্যা বলতেছে,,, আজকে কুষ্টিয়া তে ভাইয়ের বন্ধুদের বাদ দিয়ে যারা চেনেও না তাদের দিয়ে অনুষ্ঠান হচ্ছে,,, কাউকে কোনো প্রতিবাদ করতে দিচ্ছে না অথচ যে ‘অমিত সাহা’ র রুমে হত্যা করা হলো সে বাইরে,,,তার নাম মামলায় থাকলেও এজাহার থেকে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই বাদ দেয়া হলো,,,৫২,৬৯,৭১ এও আমাদের ভাইদের বিক্ষোভ করতে দেয়া হয় নি,,,স্বাধীনতার ৪৮বছরেও সেই একই অবস্থা কেন? আমি শুধু জানতে চাই কেন? আমাদের অধিকার আমরা কবে পাব? কবে আমাদের মেরুদণ্ড সোজা হবে?

বিচার হবে সকলে বলছে,,মানলাম তাহলে পুলিশ আটকাচ্ছে কেন?সেই ছাত্রলীগ কেন হামলা করছে? আরো ভালো লাগলো যারা বল্লো তোমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তারা শাস্তি পাবে তাদের জন্য আমরা পাশে থাকব,,,তারাই এখন চাটুকারিতা করছে,,,জনৈক দলের আইনজীবী ও সুন্দর বিনোদন দিচ্ছে,,এদের বিচার কেন হয় না?
আশা করি প্রশ্নের উত্তর গুলা পাব,,,
আজ বঙ্গবন্ধু থাকলেও বলতো ধিক্কার বাঙালি এইজন্য আমি লড়েছিলাম।।।।”

গত রোববার রাতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এরপর তাকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।