আবাদী জমি তিস্তা নদী গর্ভে বিলীন ও ঘরবাড়ী ভাঁঙ্গন, আতঙ্কে তিস্তাপাড়ের মানুষ.…

প্রকাশিত: ২:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ২:১১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৮

মোঃ সাদিকউর রহমান শাহ্ (স্কলার ): নদীর এ-কুল ভাঙ্গে ও-কুল গড়ে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আর এই প্রকৃতির নিয়মে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে যায় নদী পাড়ের মানুষ। কপাল পুড়ে তাদের। ভাঙ্গন আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়ে তারা। নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার বিঘা আবাদী জমি ও ঘরবাড়ী। প্রতিদিন নদী গর্ভে আবাদি জমি ও ঘরবাড়ী বিলীনের আশংকায় ভাঙ্গন আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে তিস্তা পাড়ের মানুষ।

উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৫টি গ্রামে তিস্তার ডাঁনতীরে এসব আবাদী জমি বিলীন হচ্ছে ও ঘরবাড়ী বিলীনের আশংকায় রয়েছে তিস্তাপাড়ের মানুষ। স্পার কিংবা গ্রোয়েন বাঁধ দেওয়া না হলে কিছুতেই ঠেকানো যাবে না এ নদী ভাঁঙ্গন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তিস্তা পাড়ের মানুষজন জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডালিয়া পাউবো’র বিভাগ নদী ভাঁঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে পাউবো’র তিস্তার রক্ষা গাইড বাঁধের তীরে থাকা গ্রোয়েন স্পার বাঁধগুলি। তিস্তাপাড়ের মানুষজন বাঁশের পাইলিং দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছে তারা। আর দুহাত ভাঙ্গলেই বাড়ীটি চলে যাবে নদী গর্ভে এ অবস্থায় কোথায় যাব কি খাব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না আক্ষেপ করে জানায় ৪ নং গ্রোয়েন বাধ সংলগ্ন ভাঙ্গন আতঙ্গে থাকা গৃহবধু আমেনা বেগম। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত তিস্তাপাড়ের গৃহবধুঁ লাইলী বেগম জানান আমাগো জমি জায়গা সব চলে গেছে নদীতে । ১২ বিঘা জমিতে আমন করেছি সেটাও চলে গেছে নদীতে। আমেনা বেগম জানান, নদীর মাঝখানে ভাসানীর চরে বাড়ী ছিলো। নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে তিস্তার ডাঁন তীরে ৪ নং স্পার বাঁধ সংলগ্ন বসবাস করছি প্রায় ৫/৬ বছর ধরে। এবার বুঝি এই ভিটাটাও চলে যাবে নদীতে। আর মাত্র দুই হাত এগুলে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বাড়ী ঘর। কি করমু কি খামু দিশা পাই না। জায়গা জমিও নেই বাড়ী সরানোর। এখন কি করবো কোন পথ খুঁজে পাই না।

তিস্তায় ক্ষতিগ্রস্ত একই গ্রামের কৃষক আয়নাল হক জানায়, আমারসহ প্রায় দুই আড়াই’শ ব্যক্তির সকলের একই অবস্থা। এই নদী যদি শাষনের ব্যবস্থা না হয় তাহলে শুধু আমরা না তিস্তা রক্ষা গাঁইড বাঁধ ভেঙ্গে পুরো ডিমলা শহর দিয়ে যাবে এই নদীর স্রোত। যদি নদী শাসনের ব্যবস্থা সরকার করতো তাহলে হয়ত আমাদের জমি ও বাড়ী ভিটা কিছুটা হলেও রক্ষা করা সম্ভব হতো। তিস্তায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবোরের সদস্য বেলাল হোসেন জানান ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের আবাদী জমি ও বাড়ীঘর বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সব সময় ভাঙ্গছে আবাদী জমি। সকালে দুই বিঘা দেখে গেলে পরের দিন পাঁচ বিঘা নেই এভাবেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে আবাদী জমি। সরকারের দ্রুত ব্যবস্থার নেয়ার কথা জানায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা আনোয়ার হোসেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের স্ত্রী মোছা.হামিদা বেগম আরো অনেকে । বাব দাদার সম্পতিতে বোরো মৌসুমে ধান লাগিয়েছি এসব আবাদী জমি নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। যদি নদী শাষনের ব্যবস্থা সরকার করতো তাহলে হয়ত আমাদের জমিগুলো কিছুটা হলেও রক্ষা করা সম্ভব হতো জানায় তিস্তাপাড়ে বসবাসকারী আলী আকবর ও টেপাখড়িবাড়ী ইউপি মো: নজরুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছি নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন। আর যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে আরো বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে তিস্তা পাড়ের মানুষ ও তিস্তা রক্ষা গাঁইড বাঁধ।