আমরা দুঃখিত: ইসি সচিব

পৌর নির্বাচনে সহিংসতায় নিহতের ঘটনায় ইসির দুঃখ প্রকাশ

প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১ | আপডেট: ৮:৪২:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনেও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতায় সৈয়দপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী নিহত হয়েছেন। চারঘাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়াও কয়েকটি পৌরসভায় ককটেল বিস্ফোরণ, কেন্দ্র দখল ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকটি পৌরসভার কয়েকজন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বাকি পৌরসভাগুলোতে তেমন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনী সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ব্যাপারে রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, ‘কোনো মৃত্যুই কাঙ্ক্ষিত নয়। এ জন্য আমরা সবাই দুঃখিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৯টি পৌরসভা, চারটি উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন এবং জেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়নি। আমাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মনিটরিং সেল ঘণ্টায় ঘণ্টায় যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন, তাতে এখন পর্যন্ত যা বুঝতে পেরেছি, দেশে যে নির্বাচনটি হয়েছে, তা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।’

সৈয়দপুরে যুবক নিহতের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘সৈয়দপুরে সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের পাশে, কেন্দ্র থেকে দূরে দুটি গাড়ির মাঝে ছোটন অধিকারী নামের একজন ব্যক্তি আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতে চিহ্ন ছিল না। সুরতহালে এরকমই পাওয়া গেছে। তার মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে আমরা বলতে পারবো। ভোটকেন্দ্র থেকে অনেক দূরে দুই প্রার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে।’

নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কেমন হয়েছে, সেটা আপনারাই বলতে পারবেন। আমি তো মনে করি, আমাদের মূল্যায়নে ভোট ভালো হয়েছে।’

নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘যদি কেউ নির্বাচন প্রত্যাখান করে, এটা নিতান্তই তার ইচ্ছা। তিনি করতেই পারেন। তিনি যদি আমাদের অভিযোগ করেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। আমাদের ফিল্ড লেভেলে রিটার্নিং অফিসার আছে, আমাদের ল অ্যান্ড এনফোর্সিং এজেন্সি আছে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে, কাজেই সবাই কিন্তু আইনশৃঙ্খলা দেখেন। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনার জন্য মূল ব্যক্তি হলেন রিটার্নিং অফিসার। তাদের কাছে অভিযোগ করে থাকেন, যদি কমিশনেও যদি তারা কোনো ধরনের অভিযোগ করে থাকেন, তদন্ত করে দেখবো।

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে আপনারা জানেন চারঘাটে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে, কোনো দুস্কৃতিকারী চার্জ করেছে। সেখানে চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি শৃঙ্খলার মধ্যে এনেছে। রিটার্নিং অফিসার আমাদের জানিয়েছেন, সেখানে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। ইভিএমে জালভোট দিতে গেলে একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের মাঠে অ্যাকশন ছিল, যার কারণে আমরা বলতে পারি, যে এই নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থগিত চারটি কেন্দ্রের ভোটও সুষ্ঠু হয়েছে। তাই বলতে পারি, যে কেউ ইচ্ছা করলে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে পারেন। এটি নিতান্তই তার ব্যাপার।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপিরি অংশ না নেয়ার ঘোষণা বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সব সময় চায়, প্রতিটি ব্যক্তি, প্রতিটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আমাদের কাছে যে সহযোগিতা চাইবে, নির্বাচন কমিশন সে বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করবে।’

বিএনপির এই ঘোষণায় ইসি কোনো প্রশ্নের মুখে পড়ল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা দেখা যাক। এখনো তো তফসিল ঘোষণা করিনি। তফসিল ঘোষণার সময় আমরা বিষয়টি দেখবো।’