আমাদের সম্পদের ওপর গরিবদের হক রয়েছেঃ অর্থমন্ত্রী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯ | আপডেট: ১২:১৭:পূর্বাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমাদের দেশের মানুষ ইনকাম টেক্স যেমন কম দেয়, তেমনিভাবে অনেক সক্ষম ব্যক্তি জাকাতটাও আদায় করে না। আমাদের ওপর হজ যেমন ফরজ তেমনি জাকাতও যাদের সম্পদ আছে তাদের জন্য বাধ্যতামূলক।

শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনে পুলিশ কনভেনশন সেন্টারে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিমের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ফারুক আহমদ সরদার ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফজলুর রমানের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, হজ এজেন্সির যারা আছেন আপনারা তো হজের কাজ করবেনই, সেইসঙ্গে জাকাত দেয়ার পদ্ধতিও শিখিয়ে দেবেন। জাকাত দিলে সম্পদ সঠিক হয়। আল্লাহ সম্পদে বরকত দেন। আমাদের সম্পদের ওপর আত্বীয়-স্বজনসহ প্রতিবেশী ও গরিবদের হক রয়েছে। এই হক যেন পূরণ করতে পারি।

তিনি বলেন, আগে প্রতি বছরই হজের সময় খারাপ অবস্থা দেখতাম। কিছু লোক যেতে পারছেন না, ফ্লাইট নেই, এজেন্সি মালিককে পাওয়া যাচ্ছে না ইত্যাদি নানা সমস্যা। এখন এই সমস্যাগুলো আর নেই।

অর্থমন্ত্রী হজ এজেন্সিগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা অত্যন্ত সুন্দরভাবে হজ ওমরাহ ব্যবস্থাপনার কাজ করে আসছেন। প্রত্যেক মানুষের জীবনের ইচ্ছা থাকে একবার বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করার এবং রাসূলের রওজা জিয়ারত করার। আমরা সবাই প্রার্থনা করি, রাসূলের রওজা জিয়ারত ছাড়া আল্লাহ যেন আমাদের মৃত্যু না দেন।

তিনি বলেন, হজের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশনা দেন, যেন প্রতি বছর শুদ্ধভাবে হজ আদায় হয়। তিনি এই ব্যাপারে সব সময় খোঁজ-খবর রাখেন, যা করণীয় তা করার নির্দেশ দেন। আমিও আমার ওপর কোনো দায়িত্ব আসলে তা পরিপালন করবো।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় যেখানে যে সমস্যা আছে সেগুলো সমাধানের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবো। আজও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হজ নিয়ে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তিনি প্রি-ডিপার্টচার ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে বলেছেন, যেন এই ব্যাপারে আমরা শক্তভাবে অগ্রসর হই। কোনোভাবেই এটা যেন না পেছায়।

তিনি বলেন, এ বছর যদি সুন্দরভাবে হজ সম্পন্ন হয় প্রধানমন্ত্রী হজ এজন্সিগুলোর সৌজন্যে গণভবনে ডিনারের আয়োজন করবেন।

বেসামরিক নিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী প্রি-ডিপার্টচার ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থাসহ অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছেন। আশা করি এবারের হজ সফল হবে। হজ ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। এ বছর হজে বিমানের টিকিট নিয়েও কোনো সমস্যা নেই।

সভাপতির বক্তব্যে এম শাহাদাত তসলিম বলেন, হজ ব্যবস্থাপনা একটি কঠিন কাজ। একই সময়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মক্কা, মিনা, আরাফা মুজদালিফায় হাজীদের সেবা প্রদান করতে হয়। একসঙ্গে অনেক লোকের ব্যবস্থাপনা করতে গেলে কিছু না কিছু ত্রুট হতেই পারে। কিন্তু এজন্য এজেন্সিগুলোকে যেন ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা না হয়। কেউ অপরাধ করলে অবশ্যই সে শাস্তি পাবে।

তিনি বলেন, বিমান ভাড়া কমানো হলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত জায়গায় আসেনি। এই ভাড়া আরও কমাতে হবে। এজন্য উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে অন্য এজেন্সিগুলোকে সুযোগ দেয়া উচিৎ। তিনি হজ ব্যবস্থাপনায় বিশাল অংকের আর্থিক লেনদেনের কথা উল্লেখ করে এই খাতের জন্য আলাদা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জহির আহমেদ, আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলাম,হাবের সাবেক সভাপতি মো. ফারুক, আব্দুশ শাকুর, মো. ইব্রাহীম বাহার, সহসভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী, মো. ইব্রাহীম, সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার, ফরিদ আহমেদ মজুমদার প্রমুখ।

এর আগে একই হলে হাবের ১৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিমের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি মো. ফরুক, মো. আবদুশ শাকুর, ইব্রাহীম বাহার, সাবেক সহসভাপতি গোলাম সরোয়ার, সাবেক মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহ প্রমুখ। এছাড়া হাবের সদস্যদের সন্তানদের জন্য আয়োজিত কেরাত ও আজান প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন হাবের নেতারা।