আমিরাতি ‘আদব’ শিখতে ইসরায়েলে বিশেষ প্রশিক্ষণ

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | আপডেট: ৯:১৪:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১

সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করে দীর্ঘদিনের তৈরি সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর পর থেকে দেশটির দুবাইয়ে ইসরায়েলিদের ভিড় দিনকে দিন বাড়ছে। তবে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে আমিরাতিদের ইসরায়েলে যাওয়ার ক্ষেত্রে।

কড়া শাসনের আমিরাতে যাওয়ার পর ‘আদব-কায়দা’ কেমন হবে, তা নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে ইসরায়েলে। কেননা, প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া, চিৎকার করা কিংবা কাউকে অপমান করা সহ্য করা হয় না। এ ক্ষেত্রে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে দেশটিতে।

ডয়চে ভেলে জানায়, নানা কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও দুবাইকে নিরাপদ মনে করেন ইসরায়েলিরা। গত ২৬ নভেম্বর সরাসরি বিমান যোগাযোগ শুরুর পরবর্তী ৮ সপ্তাহে দুবাইয়ে গেছেন ৫০ হাজার ইসরায়েলি। বর্তমানে দেশ দুটির মধ্যে ৪টি সংস্থার প্রতিদিন ১৫টি করে ফ্লাইট চলছে।

আমিরাতে এখন বিপুল সংখ্যক স্থানীয় ইহুদি ও পর্যটক দেখা যাচ্ছে। ইহুদিদের জন্য বিশেষ অনুমোদিত ‘কোশার চিকেন’ রেস্তোরাঁ খোলা হয়েছে, যাতে প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করার মতো। বিলাসবহুল হোটেলে ইহুদিদের বিয়ের অনুষ্ঠান, ছুটির পার্টি হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ব্রুজ খলিফাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হিব্রু ভাষার গান ভেসে আসছে।

আবু ধাবির পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ইহুদি সম্প্রদায়। এর আওতায় হোটেল বা রেস্তোরাঁকে কোশার সার্টিফিকেট দেয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া দুবাইতে একটি ইহুদি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, ইহুদিদের ধর্মীয় স্নানের উৎসব হচ্ছে। দুবাই ডায়মন্ড এক্সচেঞ্জের সঙ্গে চুক্তি করেছে ইসরায়েলি ডায়মন্ড এক্সচেঞ্জ।

বলা হচ্ছে, লকডাউনের কারণে আমিরাতসহ অন্যান্য দেশের মানুষদের ইসরায়েলে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। তবে ইসরায়েল থেকে একতরফা বাইরের দেশে যেতে দেয়া হচ্ছে। ফলে বাণিজ্যিক কারণে অল্প কিছু আমিরাতি ইসরায়েলে যেতে পারছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্ততায় গত বছরের আগস্টে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি করে আমিরাত। এরপর বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো একই পথে হাঁটে। এ ঘটনাকে আরবদের ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’ আখ্যায়িত করে কড়া প্রতিবাদ জানায় ফিলিস্তিনসহ গোটা মুসলিম বিশ্ব।