‘আমি নাকি পাকিস্তানি, আমি অবাক’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০ | আপডেট: ২:১৮:অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

‘বাংলাদেশি একটি অনলাইন পোর্টাল লিখেছে আমি নাকি পাকিস্তানি, আমি অবাক। ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে জন্ম আমার। সে সময় আমার বাবা পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত, করাচিতে পোস্টিং।

১৯৭১ সালে তাকে সকল বাঙালির সঙ্গে জেলে নেওয়া হয়। যদি তারা আমাকে পাকিস্তানি বলে, তাহলে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের জন্মগ্রহণ করা সকল বাংলাদেশিই পাকিস্তানি অথবা পূর্ব অথবা পশ্চিম পাকিস্তানি।’

নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পূর্বে তার বিরুদ্ধে নতুন ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এমনটাই বললেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার।

দেখা গেছে, ওই অনলাইন পোর্টাল বলছে ডা. ফেরদৌস খন্দকারের পাসপোর্টের জন্মস্থানে পশ্চিম পাকিস্তান লেখা রয়েছে।

কূটনৈতিক মাধ্যম থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের পূর্বে যাদের জন্ম পশ্চিম পাকিস্তানে তাদের পাসপোর্টে পশ্চিম পাকিস্তানই লেখা থাকবে। ডা. ফেরদৌস বলেন, ওই অনলাইন পোর্টাল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টায় লেগেছে।

১৯৭১ সালের বাংলাদশের অনেক বীর সামরিক অফিসারই পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন। যারা মাতৃভূমির জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিলেন।

কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের আটক রাখেন। কেউবা পরিবারের কারণে সেখানে আটকে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন।

বুধবার রাতে নিউ ইয়র্কে ফিরে গেছেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। যুক্তরাষ্ট্রে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নিযুক্ত হয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেন ডা. ফেরদৌস।

এক সময় প্রবাসীদের নিকট আস্থার নাম হয়ে ওঠে ডা. ফেরদৌস। নিউ ইয়র্কে করোনার প্রকোপ কমে গেলে তিনি মাতৃভূমির জন্য কাজ করতে উদ্যোগী হন। নিজ আগ্রহে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে আসেন।

ডা. ফেরদৌস খন্দকার নিউ ইয়র্ক থেকে উড়াল দেওয়ার পূর্বেই দেশে তার নামে নানা রটনা ছড়িয়ে পড়ে। তারপরেও তিনি চলে আসেন। তবে দেশের মাটিতে পা দিতেই তাঁকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়।

১৪ দিন কোয়ারেন্টিন শেষ করে তিনি দেশের করোনা রোগীদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেন। ‘অজ্ঞাত’ কারণে বাধাপ্রাপ্ত হন।

মঙ্গলবার সাথে এক সাক্ষাৎকারে অন্তত এক সপ্তাহ দেশে থাকার কথা জানালেও অজ্ঞাত কারণে বুধবার রাতেই তিনি একটি বিশেষ বিমানে ঢাকা ত্যাগ করেন।

নিউ ইয়র্কের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ফেরদৌস কোভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর জ্যাকসন হাইটসে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে তিনি আলোচিত হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়ে দেশের মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েও সাড়া ফেলেন।