আমেরিকাকে ইউরোপীয় কমিশনের হুঁশিয়ারি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ৫:১১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮

আমেরিকা যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) উৎপাদিত পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করে তাহলে ইইউ-ও অবিলম্বে এর প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র ড্যানিয়েল রোজারিও।

মঙ্গলবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ড্যানিয়েল রোজারিও বলেন, আমেরিকা যদি নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে জবাব দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নও প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে বাণিজ্য আলোচনা ত্বরান্বিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) চাপ দিচ্ছে আমেরিকা।

গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট জিন ক্লাউড জুনকারের বৈঠকের পর থেকেই চাপ দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। দুইজন জার্মান ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে আমেরিকার এ চাপ প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আমেরিকা নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত এমিলি হাবের সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ট্রাম্প-জুনকার বৈঠকে ঐকমতের পর এই সপ্তাহে প্রথমবারের মতো একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা খুব দ্রুত ফলের জন্য চাপ দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান অবস্থায় ইইউ কর্মকর্তাদের জন্য একটি পরিষ্কার নির্দেশনা দরকার। আর ২০১৯ সালের মে মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আগামী বছর আমেরিকা এক হাজারের বেশি কর্মসূচির পরিকল্পনা প্রকাশ অনুষ্ঠানে হাবের বলেন, ‘আমেরিকানরা খুব দ্রুত ফলাফলের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সময়সূচী অনুযায়ী আগামী বছর ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে। আর আমাদের এই নির্বাচনের আগেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।’

একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, কোনও নির্দিষ্ট তারিখ না জানালেও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও অন্যান্য পণ্যের ওপর করারোপের বিষয়ে দুই পক্ষই আলোচনা শুরু করতে চায়। তাই জুনকারের সঙ্গে বৈঠকে ইউরোপীয় গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপ না করতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প।

এই বিস্ময়কর সমঝোতা দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি হ্রাস করেছে। তবে আলোচনা মন্থর গতিতে হওয়ায় মার্কিন কর্মকর্তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। ইউরোপীয় ছুটির কারণে ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠকের পর তা স্থগিত করা হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মিউচিন গত মাসে বলেছেন, বিষয়টি খুব দ্রুত সমাধান হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্রও গত সপ্তাহে ইইউ-আমেরিকা ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু তিনি বিস্তারিত কোনও তথ্য জানাননি।