আমেরিকাকে পেছনে ফেলছে চীন

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৩৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

নানজিং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কিংনান জিয়ে এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির রিচার্ড ফ্রিম্যান বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় চীনের অবদান নিয়ে একটি অনুসন্ধান চালিয়েছেন।

তারা ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এর দ্রুত সম্প্রসারণ নথিভুক্ত করেছেন, যেখানে শারীরিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও গণিতে চীনের বৈশ্বিক গবেষণামূলক প্রকাশনার অংশীদারিত্ব চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের মধ্যে চীনের অংশীদারিত্ব আমেরিকার অংশীদারিত্বকেও ছাড়িয়ে গেছে।

নানজিং ও হার্ভার্ডের দুই গবেষক সব বিষয়কে সমন্বয় করেছেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, চীনা একাডেমিশিয়ানরা এসব বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রের বৈশ্বিক প্রকাশনার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশির দাবিদার ও লেখক।

গবেষণাটির লেখকরা আরও যুক্তি তুলে ধরেছেন যে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার গবেষকদের ঠিকানার ওপর ভিত্তি করে তৈরি তাদের রিপোর্ট থেকে চীনের প্রভাব ও অংশীদারিত্ব বেশি বৈ কম হবে না।

কারণ নিজেদের নেয়া ডেটার মধ্যে চীনের বাইরে অন্যান্য দেশে অবস্থিত চীনা গবেষকদের প্রবন্ধ-রিসার্চ পেপার তারা অন্তর্ভুক্ত করেননি এবং চীনের বৈজ্ঞানিক প্রকাশনাগুলোতে প্রকাশিত বেশিরভাগ পেপারও বিবেচনায় নেয়া হয়নি।

ত্রিশ বছর আগের এক ডিসেম্বর মাসে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আধুনিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় শুরু হয়েছিল। তখন থেকে শারীরিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও গণিতের গবেষণাধর্মী প্রকাশনায় চীনা একাডেমিকরা হয়ে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল বৈশ্বিক প্রদায়ক (কন্ট্রিবিউটর)।

সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সঙ্গে একাডেমিক সহায়তা কমিয়ে আনার যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা এ প্রবণতায় তেমন একটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না।

সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেবল পেপার্সের সংখ্যার পরিমাপেই নয়, একাডেমিশিয়ানদের উদ্ধৃতিতেও নিকট ভবিষ্যতে চীনা স্কলাররা বৈশ্বিক নেতৃত্বদানকারীতে পরিণত হতে পারেন।

একই সঙ্গে জিয়ে ও ফ্রিম্যান তর্কসাপেক্ষে সবচেয়ে মর্যাদাকর দুটি বিজ্ঞান জার্নাল- ‘নেচার’ ও ‘সায়েন্সে’ প্রকাশিত প্রবন্ধগুলোর গ্রন্থস্বত্বও পরীক্ষা করেছেন।

তারা দেখেছেন, ২০১৬ সালে সেখানে ২০ শতাংশ লেখকই ছিলেন চীনা, যা ২০০০ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

উল্লেখ্য,কয়েক দশক ধরে চীনের প্রবৃদ্ধি সামনের দিকে টেনে নিয়ে গেছে কৃষি থেকে কর্মীদের শৈল্পিক উৎপাদনের দিকে সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি। যদিও এ ধরনের স্থানান্তর সার্বিক উৎপাদনশীলতায় দীর্ঘমেয়াদি ক্রমোন্নয়ন ধরে রাখে না, তথাকথিত লিউইস টার্নিং পয়েন্টের দিকে দেশটির যাত্রার সময় চীনা সরকার একটি ক্রমবর্ধমান সমন্বিত প্রচেষ্টা নিয়ে রেখেছে, যাতে করে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিমূল গড়ে তোলার জন্য আরেকটি সুযোগ দিয়ে তৈরি করা যায়।