আর থাকছে না ইউজিসি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ২:০২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮

উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়ন, উৎকর্ষ সাধন এবং বিস্তারের লক্ষে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বাতিল করে উচ্চ শিক্ষা কমিশন গঠন করছে সরকার। দেশে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, সম্প্রসারণ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে জ্ঞান প্রসারে অধিকতর সক্ষম করে তোলা ও বিশ্বমানের জনশক্তি তৈরির উপযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে এ কমিশন গঠিত হচ্ছে। এ কমিশনের আওতায় দরিদ্র মেধাবী এবং আর্থিক সাহায্য প্রার্থীদের বৃত্তি শিক্ষা সাহায্য দেওয়ার জন্য এক বা একাধিক ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হবে। যা উচ্চ শিক্ষা কমিশন আইন ২০১৮ নামে অভিহিত হবে। আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশের দিন থেকে কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে গত ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে আইনটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,উচ্চ শিক্ষার গুণগতমান, কাঙ্খিত উৎকর্ষ সাধন, পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নবতর জ্ঞানের দিগন্ত উম্মোচন এবং প্রতিযোগীতায় টিকে থাকার সংগ্রামে অবতীর্ণ(ইউজিসি) সংস্কার ও পুনর্গঠন সময়ের অপরিহার্য দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র ৬ টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম কদারকির জন্য ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন(ইউজিসি) গঠিত হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বর্তমানে ৪১ টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে।

এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের বিশাল সংখ্যক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক বিষয়ে তত্ত্বাবধান ও তদারকিসহ এ সকল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুনর্গঠণ জরুরী হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ উচ্চ শিক্ষা কমিশন একটি স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ, জম্মস্থান এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য কমিশন দরিদ্র , মেধাবী এবং আর্থিক সাহায্য প্রার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের লক্ষে এক বা একাধিক ট্রাষ্ট ফান্ড গঠন করবে। এটি একটি সংবিধিদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।

নিয়ম অনুসারে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হবে। রাষ্ট্রপতি উচ্চ শিক্ষা কমিশনের একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতিমান ও অভিজ্ঞ শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসকদের মধ্যে থেকে এমন একজনকে কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হবে যিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছেন। চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করবেন। রাষ্ট্রপতির নিয়োগ দেওয়া ৫ জন পূর্ণাঙ্গকালীন সদস্য থাকবেন। এছাড়া এ কমিশনে আরো ৩ জন সদস্য সরকারের মনোনয়নে দায়িত্বপালন করবেন। তারা হচ্ছেন শিক্ষা সচিব, অর্থ সচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনের একজন সদস্য।

উচ্চ শিক্ষার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- স্নাতক, স্নাতকোত্তর, তদুর্ধব ডিগ্রিএবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা শ্রেণি এ কমিশনের আওতাভুক্ত হবে। এ আইনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চ শিক্ষা কমিশনের এক বা একাধিক শাখা খোলা যাবে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ থেকে রাষ্ট্রপতি ৩ জন উপাচার্য ও ৩ জন ডিনকে কমিশনের খন্ডকালিন সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব চ্যান্সেলরের সাচিবিক দায়িত্বপালন করবেন।

চেয়ারম্যান কমিশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্বপালন করবে। তার যে কোনো কারণে অনুপস্থিতি কমিশনের জ্যেষ্ঠ সদস্য সাময়িকভাবে দায়িত্বপালন করবেন। সদস্যরা চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে থাকবেন এবং তার কাছে জবাবদিহি থাকবেন। কমিশনের সচিব সরকার নিয়োগ দেবে। একটি সচিবালয় থাকবে। কমিশনের সচিবালয় চেয়ারম্যানের অধীনে থাকবে। কমিশনের সচিব অভ্যন্তরীণ প্রশাসন বিভাগের প্রধানের দায়িত্বপালন করবেন। চেয়ারম্যান কমিশনের সভায় সভাপতিত্ব করবেন। তার অনুপস্থিতি জ্যেষ্ঠ্য সদস্য সভাপতিত্ব করতে পারবেন। সদস্যদের একটি করে ভোট থাকবে। চেয়ারম্যানের কাস্টিং ভোটের এখতিয়ার থাকবে। পূর্ণকালীন ৩ জন এবং মোট সদস্যদের এক তৃতীয়াশের উপস্থিতি কোরাম হবে।

কমিশনের কাজের পরিধি আইনে বলা হয়েছে। সরকারি দিক নির্দেশনা এবং পরামর্শে কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার চাহিদা নিরূপন, পরিকল্পণা প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাজেট তৈরি করে সরকারের কাছে পেশ করে বরাদ্দ গ্রহণ করবে। চাহিদার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অনুদান প্রদান করবে। বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সকল প্রকার উন্নয়ন পরিকল্পণা প্রণয়ন, প্রকল্প গ্রহণ, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন এবং কার্যক্রম তদারকি করবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষা সংক্রান্ত পরিসংখ্যা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করবে। দেশে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হলে তা সরকারের নিকট সুপারিশ আকারে তুলে ধরবে। অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলকে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও পরামর্শ দেবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জিত ডিগ্রির সমতা বিধান করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তির ন্যূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শর্তাবলী কমিশন নির্ধারণল করবে। বিশ্বাবিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকদের একাডেমিক দক্ষতা বৃদ্ধি, মেধালালন ও উৎসাহ প্রদান, পেশাগত মানন্নোয়নে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেশে বিদেশে এম,ফিল, পিএইচডি. ও পোষ্ট ডক্টরাল ফেলোশিফের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিভিন্ন ধরণের স্কলারশিপ, ফেলোশিফের, পদক, চেয়ার, প্রফেসরশিপের প্রবর্তন ও বাস্তবায়ন করবে এ কমিশন।

পরিদর্শন বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে। কমিশন যখন মনে করবে তখনই বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ পরিদর্শন করাতে পারবে। দিতে পারবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন অনিয়ম দুর্নীতি কমিশন স্ব-প্রণোদিত হয়ে কিংবা কারো আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করতে পারবে। কমিশনের সুপারিশ আমলে না নিলে প্রোগ্রাম, কোর্স এর অনুমোদন বাতিল কিংবা স্থগিত, শিক্ষার্থ ভর্তি বন্ধ, কিংবা কমিশন যে রূপ মনে করবে অনুরূপ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। প্রয়োজন পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে প্রস্তাবিত অনুমোদিত মঞ্জুরী স্থগিত করতে পারবে। উচ্চ শিক্ষা কমিশন ও কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোন বিষয় বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নিয়ে চ্যান্সেলরের কাছে আবেদন করা যাবে এবং তার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। চ্যান্সেলর কমিশনের জন্য পরামর্শক ও উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে পারবেন।

ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ,লিঙ্গ, জম্মস্থান, বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী যোগ্য শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে কমিশন দরিদ্র মেধাবী এবং আর্থিক সাহায্য প্রার্থীদের বৃত্তি প্রদানের লক্ষে এক বা একাধিক ট্রাষ্ট ফান্ড গঠন এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপালন করবে।

কমিশনের একটি তহবিল থাকবে। সরকার থেকে পাওয়া অর্থ কোনো ব্যাক্তি, ব্যক্তিগোষ্ঠি, দাতব্য ট্রাস্ট বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অর্থ এ তহবিলে জমা হবে। বিভিন্ন ফি হিসেবে আদায় হওয়া অর্থ এ তহবিলে জমা হবে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে বিদেশী সংস্থা ও বিদেশ থেকে পাওয়া দান অনুদান বা সাহায্যের অর্থ এ খাতে জমা হবে।