আলজাজিরা-এপির কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল

প্রকাশিত: ৮:৩২ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২১ | আপডেট: ৮:৩২:অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২১

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে। শনিবার (১৫ মে) গাজা উপত্যকায় এ হামলা চালায় দখলদার বাহিনী।

ভবনটিতে আল-জাজিরা, মিডল ইস্ট আই, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও অন্য আরও কয়েকটা সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় ছিল। তবে এই হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভবনটি উড়িয়ে দেওয়ার আগে সেখান থেকে সংবাদকর্মীদের চলে যেতে একঘণ্টার সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছিল।

আল জাজিরায় প্রচারিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ১১তলা আল জালা ভবনটি মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে যায়। ভবনটিতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় ছাড়াও আবাসিক কাজেও ব্যবহার হতো। ভবনটি গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর আশেপাশের এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

আল জাজিরার প্রতিনিধি আল কাহলুত জানান, ভবনটির এক বাসিন্দা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি সতর্ক বার্তা পান। হামলার আধঘণ্টা আগে ওই সতর্কবার্তা পাওয়ার পর অনেকেই ভবনটি থেকে বের হয়ে যান। ওই সময়ে ভবনটিতে থাকা আল কাহলুত জানান তিনি ও তার সহকর্মীরা মিলে যতটুক পারা যায় তত সরঞ্জাম নিয়ে বাইরে বের হয়ে আসেন।

খবরে বলা হয়, ষষ্ঠ দিনের মতো ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। তারা গাজার একটি শরণার্থী শিবিরেও বোমা হামলা করেছে। এতে অন্তত আট শিশুসহ ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনে গেল পাঁচ দিনের সহিংসতা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংঘাত হিসেবে রেকর্ড করা হচ্ছে। নারী ও শিশুসহ এখন পর্যন্ত গাজায় ১৫০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আর ইসরায়েলে মারা গেছে নয়জন। আহত হয়েছেন অন্তত ৯৫০ জন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার অনেক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শনিবার সকালেও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এসব ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আরও মরদেহ পড়ে আছে।

নতুন করে সংঘাতের শুরুটা হয়েছে ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে। এরপর ইসরায়েলের ‘জেরুজালেম দিবস’ পালনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

এদিকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার সংঘর্ষ নিরসনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার যে জরুরি বৈঠক ডেকেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অমতের কারণে তা বাতিল হয়ে গেছে। এর আগে বুধবারও ওই বৈঠক আটকে দেওয়া হয়।