‘আলমডাঙ্গা স্টেশন বাঁচাও’ বাজবে না ঘণ্টা, জ্বলবে না সিগন্যাল বাতি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৩৭:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রথম দুতলা বিশিষ্ট রেল স্টেশন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা। রেল স্টেশনটি আনুষ্ঠানিক বন্ধ ঘোষণা করা না হলেও যেভাবে চলছে, তা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সম্প্রতি জনবল কমিয়ে স্টেশনটির কার্যক্রমকে সংকুচিত করা হয়েছে।

জানা য়ায়, গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাসুম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওই স্টেশন থেকে সাতজনের মধ্যে পাঁচজনকেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে নামমাত্র দুইজন বুকিং মাস্টার দিয়ে কোনো রকম স্টেশনটি চালু রাখা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা স্টেশন মাস্টার শরীফুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘আলমডাঙ্গা স্টেশনে মোট জনবলের পদ রয়েছে ১৩টি। কিন্তু দীর্ঘদিন মাত্র ৭ জন দিয়ে আমরা স্টেশনের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলাম।’

স্টেশন মাস্টার আরো বলেন, ‘এমন নির্দেশনার পর স্টেশনটিতে থাকবে না চিরচেনা আগের সেই দৃশ্য। বাজবে না ঘণ্টা, জ্বলবে না সিগন্যাল বাতি। এমন কি জানা যাবে না কাঙ্খিত ট্রেনের সময়সূচিও। এ ছাড়া আলমডাঙ্গা উপজেলার বেশ কয়েকটি রেলক্রসিংও হয়ে পড়বে অরক্ষিত’।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ গোটা আলমডাঙ্গা উপজেলাবাসী। তারা অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুমকি দেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম মন্টু বলেন, ‘দেশের প্রথম দুইতলা বিশিষ্ট আলমডাঙ্গা স্টেশনটি মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি নিদর্শনও বটে। তাছাড়া ঐতিহ্যবাহী স্টেশনটি প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে থাকেন। প্রতিবছর সরকার এ স্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্বও পেয়ে থাকে। এরপরও রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ সিদ্ধান্তকে আমরা হটকারী বলে মনে করি।’

আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার বলেন, ‘রেল বিভাগের এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। ‘আলমডাঙ্গা স্টেশন বাঁচাও’ নামে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে মানববন্ধন, রেলপথ ও রাজপথ অবরোধের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘প্রতি মাসে রেলওয়ের অসংখ্য কর্মকর্তা কর্মচারী অবসরে যাচ্ছেন, কিন্তু নতুন জনবল নিয়োগ হচ্ছে না। জনবল চেয়ে বারবার মন্ত্রণালয়ে তাগিদ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। এমন পরিস্থতিতে আলমডাঙ্গা স্টেশন থেকে জনবল প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।’

শুধু আলমডাঙ্গা স্টেশন থেকে নয়, এর আগেও আরো ৫১টি স্টেশন থেকে জনবল গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বাংলাদেশ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন।