আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মা-মেয়েকে পেটানোর অভিযোগ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১ | আপডেট: ১:৫৭:অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১

বরগুনার বামনায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে রামনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম জমাদ্দার ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে।

গুরুতর আহত ওই নারীও তার মেয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যেতেও বাধা দিয়েছেন অভিযুক্তরা। পরে ৯৯৯ নম্বরে কল করলে হামলার ৬ ঘণ্টা পরে বামনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের কবল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।

মারধরের শিকার ওই নারীরা হলেন, রামনা ইউনিয়নের উত্তর রামনা গ্রামের মৃত্যু ইউসুফ খানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম(৫৮) ও তার মেয়ে পারুল বেগম (৩৫)।

রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে একটি গোয়ালঘর উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের ওই প্রভাবশালী নেতা ও তার গাড়ী চালক তাদের উপর এ হামলা চালায়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় ৯৯৯ এ কল পেয়ে বামনা থানা পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে বামনা হাসপাতালে ভর্তি করান।

আহতরা বর্তমানে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনায় এথন পর্যন্ত বামনা থানায় কোন মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন ওসি হাবিবুর রহমান।

গুরুতর আহত পারুল বেগম বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে একটি গোয়ালঘর নির্মাণের সময় সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ও তার সহযোগী রাজু এসে বাধা দেয়। তাদের দাবী ওই সম্পত্তি তাদের।

অথচ আমরা বিগত ৫০ বছর ধরে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছি। রবিবার দুপুরে সাবেক চেয়ারম্যান ও তার গাড়ী চালক এসে এলাপাথাড়ি আমাদের পিটাতে থাকে। তাদের হামলায় আমার ও মায়ের মুখমণ্ডল ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত পাই।

আমরা হাসপাতালে আসতে চাইলেও দুই দুইবার তারা আমাদের গাড়ি থেকে টেনে হিচড়ে নামিয়ে দেয়। পরে ৯৯৯ এ কল করে পুলিশের সহায়তা চাই। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি করান। এসময় হাসপাতালে এসেও সাবেক ওই চেয়ারম্যান আমাদের হুমকি-ধামকি দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নজরুল ইসলাম জমাদ্দার ও তার সহযোগী রাজু জমাদ্দার এর আগে একাধিক হামলার ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিতে জোর লবিং চালাচ্ছেন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম জমাদ্দার বলেন, ‘আমার সম্পত্তি দখল করে ওই নারীরা গোয়ালঘর তুলছে। আমি অনেক বার নিষেধ করলেও তারা তা ভ্রুক্ষেপ করেননি। তবে আমি তাদের ওপর কোন প্রকার হামলা করিনি। হয়তো দু-একটি ধাক্কা দিয়েছি।’

বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ৯৯৯ এ কল পাওয়ার পরে আমাদের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই মা-মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

তারা বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত আহতদের পক্ষে কেউ থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।