‘আল্লাহর দোহাই, পায়ে ধরে অনুরোধ করছি ময়লা ফেলবেন না’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৩৬:পূর্বাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৯
ছবিঃ সংগৃহিত

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলতে ‘অদ্ভুত’ ব্যানার পোস্টার লাগিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার।

যেখানে সেখানে গৃহস্থালি আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষন ও ড্রেনের পানি নিস্কাশনের পথরোধ না করতে এই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ওয়ার্ডের ১৯টি মসজিদে জুমআর নামাজের বয়ানে বিষয়টি তুলে ধরতে ইমামদেরকেও চিঠি দিয়েছেন।

জানা গেছে, ১৩নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন মহল্লার খোলা জায়গায় ফেলা ময়লার স্তুপ সরিয়ে সেখানে ব্যানার সাটিয়ে ফুলের টব স্থাপন করেছিলেন কাউন্সিলর মাকসুদ।

কিন্তু গত কয়েকদিনে সেইসব ফুলের টব সরিয়ে ফের ময়লা ফেলায় ক্ষুব্ধ হয়ে নতুন বিলবোর্ড টানিয়েছেন আর সেখানে বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘আল্লাহর দোহাই দিয়ে আপনাদের পায়ে ধরে অনুরোধ করছি গৃহস্থলী বর্জ্য রাস্তা ঘাটে না ফেলে নাসিক নির্ধারিত এনজিওর গাড়ীতে আবর্জনা দিন।’

এমন বিলবোর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জে তুমুল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার বলেন, গত কয়েক বছর যাবৎ গৃহস্থালী আবর্জনা পলিথিনে ভরে রাস্তা ঘাটের যত্রতত্র ও বৈদ্যুতিক খুটির নীচে ফেলে রাখার একটি বাজে প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নিয়োজিত এনজিওর গাড়ি একটি নির্দিষ্ট সেবা মূল্যের বিনিময়ে ঘরে ঘরে গিয়ে গৃহস্থলী আবর্জনা সংগ্রহ করার পরেও কিছু মানুষ রাস্তা ঘাটে আবর্জনা ফেলে জন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।

তিনি বলেন, নিরুপায় হয়ে যে সব স্থানে আবর্জনা ফেলা হয় সে সব জায়গায় ফুল গাছের টব লাগিয়ে বাগান করে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু আবর্জনা ফেলা তো বন্ধ হয়নি বরং উক্ত স্থান থেকে ৬টি ফুলের টব চুরি করে নিয়ে গেছে কে বা কারা। শেষে আল্লাহর দোহাই দিয়ে পায়ে ধরে অনুরোধ করে বিলবোর্ড লাগিয়েছি।

স্থানীয়রা জানান, দেশের অন্যতম সিটি কর্পোরেশন হলেও নারায়ণগঞ্জ দেশের একমাত্র ডাস্টবিনহীন শহর। এখানে সিটি কর্পোরেশন বড় বড় মার্কেট করে বাণিজ্য করলেও ডাস্টবিন বা ময়লা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট স্থান করতে পারেনি। এনজিও থেকে যেসব ময়লা নেয়া হচ্ছে সেগুলো নিয়মিত নয় এবং অপ্রতুল।

সিটি এলাকার ময়লা নিয়ে যাওয়া হয় ইউনিয়ন এলাকায় ফেলতে। সেখানকার লোকজনও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে কয়েকদিন পরপর বাধা দেন বলে জানান স্থানীয়রা।