আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথানত করব না: এরদোগান

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৩১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮
ছবি : প্রতীকী

টিবিটি সারাবিশ্বঃএকজন শক্তিধর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করার মাধ্যমে তুরস্কের জনগণ তাদের দেশের গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন যুগের সূচনা করেছে। তবে পশ্চিমা মিডিয়া একে দেশটির গণতন্ত্রের অন্ধকার যুগের সূচনা বলে মন্তব্য করছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলে এরদোগান এখন বিশ্বের শক্তিধর নেতাদের প্রথম কাতারে এসে শামিল হয়েছেন। এই ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো প্রতাপশালী নেতারা।

তবে তার অবাধ রাজনৈতিক আধিপত্য তুরস্কের গণতন্ত্রের জন্য ভালো খবর নয় বলে পশ্চিমা বিশ্লেষকেরা দাবি করছেন। এসব মিডিয়া বরাবরই স্বাধীনচেতা এই নেতার ব্যাপারে সমালোচনামুখর।

নির্বাচনে জয়ের পর আঙ্কারায় নিজ দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) সদর দফতরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেয়া তার বিজয়ী ভাষণকে কেউ কেউ ভয়ের চোখে দেখছে। তিনি এ বিজয়কে দেশবাসীর প্রতি নিবেদন করে তুরস্কের দুশমনদের বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে চূড়ান্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সঙ্কল্প ব্যক্ত করেছেন।

এরদোগান বলেন, ‘আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারোর কাছে মাথানত করব না’। হাজার হাজার সমর্থকের সমাবেশে তিনি আরো বলেন, ‘এ নির্বাচনে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে এবং তুরস্ক বাকি বিশ্বের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।’

২০০৩ সাল থেকে এরদোগান তুরস্ককে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বে দেশটি বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও নেতৃস্থানীয় দেশে পরিণত হয়েছে। গত বছর গণভোটে তুরস্কে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির শাসন অনুমোদিত হওয়ার পর তিনি প্রথম নির্বাহী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। প্রেসিডেন্টের হাতে এখন বিপুল ক্ষমতা। তিনি মন্ত্রীদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করতে এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে পারবেন। ফরমান জারি এবং বিচারক নিয়োগ করতে পারবেন। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীকে পরিচালিত ও যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবেন।

তবে ২০১৬ সালের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর জারি করা জরুরি অবস্থা শিগগিরই তুলে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এরদোগান। নির্বাচনের আগে তুরস্কের অজ্ঞাত নিরাপত্তা সূত্র জানায়, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার পাঠানো নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে খারাপ ধারণা ছড়ানোর চক্রান্ত করছিলেন। তাদের কয়েকজনকে তুরস্কে নিষিদ্ধ করা হয়।

একে পার্টি পার্লামেন্টেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তবে তাদেরকে সরকার গঠন করতে হলে বাহসেলির এমএইচপি পার্টির ওপর নির্ভর করতে হবে। আধুনিক যুগের সুলতান হিসেবে এরদোগানের উত্থানকে ইউরোপ ভয়ের চোখে দেখছে। তবে পুতিন তার বিজয়ে বেশ খুশি হয়েছেন। সিরিয়া যুদ্ধের সময় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সত্ত্বেও আংকারা-মস্কো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে।

অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের কাছে বিক্রি করছে মস্কো। এ ছাড়া তারা যৌথভাবে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলছে। ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও এরদোগান এখন রাশিয়া ও ইরানের সাথে তার মিত্রতার সম্পর্ক অব্যাহত রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এরদোগান যেন নির্বাচিত হতে না পারেন সেটিই চাচ্ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ দেশ। তারা তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষতার আদল পরিবর্তন করার তার পদক্ষেপকে ভালো চোখে দেখছে না।

তবে অভিবাসী ও সন্ত্রাসবাদের সমস্যা মোকাবেলার জন্য ইইউ দেশগুলোর জন্য তুরস্কের সহায়তা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে আঙ্কারাকে উপেক্ষা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে হাঙ্গেরির ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এর ব্যতিক্রম। ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে তিনিই প্রথম এরদোগানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অরবানের মতো পুতিন ও ট্রাম্পও এরদোগানকে তাদের মতোই একজন শক্তিশালী ও জনপ্রিয় নেতা বলে মনে করছেন।