আসামের ৪১ লাখ মুসলিম রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায়

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৪১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৯
ছবিঃ সংগৃহিত

ভারতের আসাম রাজ্যের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) অবশেষে আগামীকাল শনিবার প্রকাশ করা হবে। দুই বছর আগে নাগরিকত্ব সনাক্তকরণের এই কার্যক্রমে প্রায় ৪১ লাখ মানুষ ‘রাষ্ট্রহীন’ হতে চলেছেন, যাদের বেশিরভাগই মুসলিম।

আসামের জনসংখ্যা ৩ কোটির উপরে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রথম খসড়া নাগরিক পঞ্জি প্রকাশ করা হয়। সেখানে মাত্র ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের ঠাঁই হয়। অথচ আবেদনই করেছিল ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ।

ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভিসহ দেশটির সংবাদমাধ্যম খবর দিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সকাল ১০টায় অনলাইনে প্রকাশিত হবে আসামের চূড়ান্ত নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল শুক্রবার চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ নিয়ে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘সত্যিকার অর্থে যারা ভারতীয় নাগরিক, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যদি তাদের নাম নাও আসে, সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্য-সহায়তা দেয়া হবে। নাগরিকত্ব প্রমাণে তাদের আইনি সহায়তাও দেয়া হবে।’

এনআরসি প্রকাশ উপলক্ষ্যে শুক্রবার রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি সেনা, সিএপিএফ ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

গুয়াহাটিসহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রাজ্যে এক সঙ্গে চারজনের চলাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।আসামের পার্শ্ববর্তী মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরাসহ অন্যান্য রাজ্যেও বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে।

আসাম পুলিশের ডিজি কুলান্দার সাইকিয়া শুক্রবার জানান, রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার আসামের শৃঙ্খলা রক্ষায় ৫১ এডিশনাল কোম্পানির সিএপিএফ সদস্য পাঠিয়েছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ভুয়া নিউজ যাতে না ছড়িয়ে পড়ে, সেদিকে সতর্ক রয়েছে। নাগরিকদেরও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ডিজি কুলান্দার।

আসাম সরকারের এনআরসি’র অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের পর থেকে যারা সেখানে অবস্থান করছেন, তাদের উচ্ছেদ করা। ইতোমধ্যে যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে আসাম সরকার, তাতে প্রায় ৪১ লাখ মুসলিম সেখান থেকে বিতাড়নের শিকার হতে চলেছেন। এ নিয়ে সেখানকার মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছে।

যারা নাগরিকত্ব পাবেন না, তাদের বাংলাদেশ গ্রহণ না করলে বন্দিশালায় রাখা হবে। এ উদ্দেশ্যে বন্দিশালাও নির্মাণ করছে আসাম সরকার। আর বন্দিশালায় যারা থাকবেন, তাদের কোনো মর্যাদা থাকবে না। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, তারা শুধু অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের সুযোগ পাবেন।

এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও বিক্ষোভ শুরু হলে ওই বছর জুলাই মাসে সংশোধিত খসড়া নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাতে ২ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ ঠাঁই পান। তবে বাদ পড়েন উত্তর-পূর্ব আসামের প্রায় ৪১ লাখ বাসিন্দা।

প্রায় ৪১ লাখ লোক বিতাড়ন নিয়ে বাংলাদেশেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর আশ্বস্ত করেছেন, আসাম রাজ্যের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি ইস্যু দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।