আসামে নাগরিকত্ব হারিয়ে আত্মহত্যা করলেন বৃদ্ধা

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৯ | আপডেট: ১১:২৭:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৯

আসামে এনআরসি থেকে বাদ পড়ে কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন শায়েরা বেগম নামের এক বৃদ্ধা। ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শোনিতপুরের ধলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি।

শনিবার আসামের ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনকে ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়ে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১১ লাখেরও বেশি হিন্দু বাঙালি। ছয় লাখের কিছু বেশি মুসলমান। বাকি দুই লাখের মধ্যে রয়েছে বিহারী, নেপালী, লেপচা প্রভৃতি।

ইতিমধ্যে হাজার খানেক মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। শায়েরা বেগম শুক্রবার রাতে এই আশঙ্কায় ছিলেন।

গত বছর প্রকাশিত খসড়া এনআরসি তালিকায় প্রায় ৪১ লাখ লোকের নাম বাদ পড়েছিল। তার মধ্যে প্রায় ৪ লাখ মানুষ তালিকায় নাম তোলার জন্য পুনর্বিবেচনার আবেদন করেননি। সেই প্রায় ৪ লাখ মানুষসহ মোট ১৯ লাখের নাম বাদ গেল আজ। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু ও মুসলিম বাঙালি।

অ্যাকটিভিস্টরা বলছেন, ২০১৫ সালে নাগরিকত্বের তালিকা হালনাগাদ শুরু হওয়ার পর থেকে তালিকা থেকে বাদ পড়ে নাগরিকত্ব হারিয়ে আটক হওয়ার ভয়ে আত্মহত্যা করেছেন অনেক মানুষ।

‘সিটিজেন ফর জাস্টিস এন্ড পিস’ সংস্থার সংগঠক জমশের আলি এ ধরনের ৫১টি আত্মহত্যার তালিকা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব হারানোর ভয় থেকে মানসিক আঘাত ও চাপের মধ্যে ছিলেন এসব মানুষ।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে হালনাগাদ তালিকার প্রথম খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

আরেক অ্যাকটিভিস্ট প্রসেনজিৎ বিশ্বাস এই তালিকাকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেছেন যা ‘প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারকে উপেক্ষা করে লাখ লাখ প্রকৃত নাগরিককে রাষ্ট্রহীন করেছে।’