আসিফ আকবরকে ‘বাংলা গানের যুবরাজ’ বলার কারণ

প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৩৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

আসিফ আকবরকে সকলেই ‘বাংলা গানের যুবরাজ’ হিসেবে অনেক আগেই গ্রহণ করে নিয়েছেন। তবুও অনেকের মনে প্রশ্ন থেকে যায় কেন যুবরাজ বলা হয় তাকে।
একাধিকবার এ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন গীতিকবি নীহার আহমেদ।

আসিফকে কেন ‘বাংলা গানের যুবরাজ’ বলা হয় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের মতামত জানিয়েছেন গীতিকবি নীহার আহমেদ। ‘দি বাংলাদেশ টুডে’ পাঠকদের জন্য লেখাটি নিচে তুলে ধরা হলো-

“আসিফ আকবরকে কেনো আমি বাংলা গানের যুবরাজ বলি- মনে-প্রাণে, ধ্যাণে-একজন গীতিকার হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কণ্ঠশিল্পীর জন্য গান লিখতে হয় আমাকে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাগানের যুবরাজ আসিফ আকবর (Asif Akbar) এর বেশকিছু গান লিখেছি এবং লিখবো। আর সেই গানগুলোর প্রচারস্বার্থে বিভিন্ন সময়ে আমার ব্যক্তিগত ওয়ালে তথ্য ও লিংক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পোস্ট করাটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

তো, গত সপ্তাহে আমার লেখা,আসিফ আকবর’র গাওয়া “হাহাকার” গানটি রিলিজের পর যথারীতি আমি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও লিংকসহ একটা পোস্ট দেই। সেই পোস্টে এবং পূর্বে দেয়া আরো বহুপোস্টে আসিফ আকবরকে বাংলা গানের যুবরাজখ্যাত গায়ক ব’লে বিশেষায়িত করি। যা আগেও করেছি এবং করবো।

প্রিন্টমিডিয়া শুরু থেকেই তাঁকে এই উপাধী দিয়েছে এবং সেইমতো চলে আসছে বিষয়টা। বহুদিন ধ’রে আমাকে কেউ কেউ সরাসরি বা ইনবক্সে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন,”বাংলা গানের যুবরাজ” কথাটি কেনো লিখি। তাদেরকে কোনো উত্তর দিতাম না এতোদিন। আমার লেখা #হাহাকার” গানটি গত সপ্তাহে রিলিজ হয়ে প্রশংসীত হওয়ার পর থেকে প্রশ্নটি বেশী মাত্রায় করা হচ্ছে। আমি আমার নিন্মোল্লেখিত বিশ্বাস ও যুক্তি দিয়ে তাদের জন্য একটি উত্তর খোঁজার চেষ্টা করলাম-

গত প্রায় বিশ বছর ধরে বাংলাদেশের অডিও শিল্পের লক্ষ লক্ষ মানুষ আসিফ আকবর’র এর (তাঁর গানেই সর্বাধীক) দরাজ কণ্ঠের কারণে জীবিকা নির্বাহ করেছেন এবং করছেন। বিষয়টা গভীর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এমন ক’রে ভাবুন তো একবার,তাঁর কারণে একজন গীতিকার থেকে শুরু করে সুরকার, সংগীত পরিচালক, যন্ত্রশিল্পী, স্টুডিও মালিক, ট্যাকনিসিয়ান, স্টুডিও ক্রু, কোম্পানির মালিক, কোম্পানির কর্মকর্তা,কোম্পানির শ্রমিক,কাভার ডিজাইনশিল্পী,কাগজের দোকানের মালিক-শ্রমিক, প্রেসওয়ালা, প্রেসশ্রমিক, ফিতাক্যাসেট বা সিডি ডিস্ক উৎপাদনকারী, ডিস্টিবিউশনকারী, প্যাকেট উৎপাদনকারী, প্যাকেট প্রক্রিয়াজাতকারী, পোস্টারশ্রমিক, কুলিশ্রমিক, বিভিন্নপর্যায়ে পরিবহন ব্যাবস্হাকারী, সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা (সেই সময়টায়) লক্ষ লক্ষ অডিও দোকান এর মালিক-কমর্চারীদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ হয়েছে।

বর্তমান সময়ে এসে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ভিডিও নির্মাণে জড়িত লোকগুলো এর আওতায় পড়েন। একটা দরাজ কণ্ঠ শুধু লক্ষ-কোটি মানুষকে মন ও আত্মার খোরাকই দিচ্ছে না; বাস্তবজীবনের খোরাক সরবরাহের পরোক্ষ অংশীদারও হচ্ছে। এই যে একটা কণ্ঠের ভাবহীন বিস্তারময় প্রভাব, তা কী গুরুত্বপূর্ণ নয়? বাংলা গানে তাঁর প্রভাবে যে প্রাণসঞ্চারের তীব্রগতি সৃষ্টি হয়েছিলো সংগীতশিল্পের ইতিহাস কী তা ভুলে যেতে পারবে বা অস্বীকারের কোনো সুযোগ আছে? সুতরাং তাঁকে বাংলাগানের যুবরাজ বলাটা,অযৌক্তিক কোথায় বলতে পারেন?”