আ. লীগ, বিএনপি নয় কমবেশি সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে নাস্তিক আছে: আসিফ নজরুল

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ | আপডেট: ১২:০২:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯
ড. আসিফ নজরুল। ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ধর্মের সাথে মুক্তিযুদ্ধ চেতনার কোন বিরোধ নেই । শাহবাগ আন্দোলনে তরুণ সমাজের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চেতনা এবং আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক নিয়ে আলোচনায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বেসরকারি এক টেলিভিশন টকশোতে ‘কার কি চাই?’এমন বিষয়ের উপর আলোচনায় শাহবাগ আন্দোলন এবং ধর্মের সাথে মুক্তিযোদ্ধা চেতনা নিয়ে আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শাহবাগের মধ্যে যারা যায় তারা কেউ কেউ নাস্তিক থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক নাস্তিক থাকতেই পারে। শুধু আওয়ামী লীগ, বিএনপি নয়, নির্বিশেষে কমবেশি সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে নাস্তিক আছে।

আসিফ নজরুল বলেন, অপরাধটা হচ্ছে আপনি যদি অবমাননা মুলক কথা বলেন, সেটা অন্য ধর্ম হোক কিংবা নিজ ধর্মের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন তাহলে এটা অপরাধ।

যদি বলেন কেন অপরাধ? আপনি যদি বাংলাদেশ পেনাল কোড দেখেন এখানে একটা চ্যাপ্টার আছে এটাকে বলে (Relegious open) আপনি যেকোনো ধর্ম সম্পর্কে লেখেন সেটা নিজের ধর্ম অথবা অন্য ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর উসকানি মুলক উক্তি করেন।

যেকোনো ধর্মের যে সবচেয়ে বড় প্রচারক বা ওই ধর্মের যে ইশ্বর, আল্লাহ অথবা ধর্মের প্রধান যে মসজিদ, গির্জা, পেগোডা এ সবকিছুর সম্পর্কে যদি আপনি অবমাননা করেন তাহলে সেটার জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে।

তিনি বলেন্, এখন আমার কথা হচ্ছে এই যে, ব্লগে অবমাননা মুলক লেখাগুলো আসতেছে এগুলো কে বা কারা লিখেছে এটা স্পেসিফিক বলা যাচ্ছে না, তবে ধারণা করা হচ্ছে শাহবাগে যারা আন্দোলন করে তাদের মধ্যে হয়তোবা দু’একজন লিখতে পারে। আবার শাহবাগে যারা যায় না তাদেরও দু’একজন লিখতে পারে।

ঢাবির আইন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, আমি এটা বলছি যে, মুক্তিযোদ্ধের চেতনা যারা ধারণ করে, তাদের মধ্যে ধার্মিক নেই এটা আমি বিশ্বাস করিনা। বরং আমি প্রবলভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ একি সঙ্গে মুসলমান ধার্মিক, হিন্দু ধার্মিক, খ্রিস্টান হলেও ধার্মিক এবং একেসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মুক্তিযোদ্ধের বইগুলো পড়া যায়, কাদের সিদ্দিকীর বই, গ্যারিলার যু্দ্ধ থেকে সমুখ্য সমরে এই জাতীয় যে বইগুলো আছে।

সেক্টর কমান্ডারের যে স্মৃতি আছে সেগুলোতে আমরা দেখেছি যোদ্ধাদের যুদ্ধ করতে যাওয়ার আগে নামাজ পড়ে নিচ্ছে, যুদ্ধ করতে যাওয়ার আগে পূজা করে নিচ্ছে। সুতরাং ধর্মের সাথে মুক্তিযুদ্ধ চেতনার কোন বিরোধ দেখিনা। ফলে এভাবে যখন বলা হয় তখন মনে হয় একটা পক্ষ নিয়ে বলা হচ্ছে।

নজরুল বলেন, পক্ষ করার যে রাজনীতিটা এটা খালেদা জিয়ার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছে এবং একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের অনেক বড় বড় নেতাদের বক্তব্যের মাধ্যমে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, এখানে দু’টা কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে একপক্ষ রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী বলে আখ্যায়িত করতে চাচ্ছে আরেক পক্ষ ব্যাপক সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে নাস্তিক বলে আখ্যায়িত করছে।

বিএনপির দিক থেকে যদি আপনাকে বলি যে, বিএনপি আসলে কি চাচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, যখন জামায়াতে ইসলামী বলল তারা রায় মানে না। ট্রাইবুন্যাল বাতিল করতে হবে, বিচার বাতিল করতে হবে। সেটার জন্য ডাকা হরতালে বিএনপি কোনোভাবেই যেতে পারে না।

তিনি বলেন, আরেকটা হল, আদালতে রায় বাহির হওয়ার পর সারাদেশে জনতারা যখন বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে, তার মধ্যে অনেকেই জামায়াত ছিল আবার পারসনালি সাঈদীর ভক্ত ছিল। অনেকেই আছে যারা তার ওয়াজের জন্য ভক্ত ছিল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুলি করেছে আবার বাধ্য হয়েও গুলি করেছে। এ রায়ের জন্য হরতাল আর ট্রাইবুন্যাল বাতিলের জন্য হরতাল এটা সম্পূর্ণ আলাদা।

তিনি আরওে বলেন, সর্বশেষ বিএনপি যে হরতাল করেছে, গণহারে সারাদেশে নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করার প্রতিবাদে আর এটা দলটির অধিকার আদায়েরও হরতাল ছিল। যে হরতাল এখনও চলছে।
Add Image