‘ইউরোপের নাম আমাদের পাগল করেছে’

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০ | আপডেট: ৯:২১:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০

বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে আটকে পড়া শত শত বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর খবর সংগ্রহে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে বাংলার দুই সাংবাদিক অনুপম দেব কানুনজ্ঞ এবং আরাফাতুল ইসলাম রয়েছেন বসনিয়ার ভেলিকা ক্লাদুসাতে। তাদের কাছেই শরণার্থীরা তুলে ধরেছেন নিজেদের দুঃখের কথা।

প্রায় প্রতিদিনই দালালদের মাধ্যমে বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্ত পাড়ি দেয়ার জন্য দলে দলে রওয়ানা হন বসনিয়ায় থাকা বিভিন্ন দেশের শরণার্থীরা। তারা একে বলেন, ‘গেম মারা’। কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও বাসে চড়ে, কখনও ট্যাক্সিতে তাদেরকে দালালেরা সীমান্তের আশেপাশে নিয়ে নামিয়ে দেন। এরপর তাদের জঙ্গলের মধ্য দিয়ে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দিতে হয়।

অলিউর রহমান ১৩ তম বারের মতো চেষ্টা করছেন সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার। বুশি নামের এক পাকিস্তানি দালালের মাধ্যমে বাসে চড়ে তিনি যাবেন ক্রোয়েশিয়া সীমান্তের পাশে কোনো এক জায়গায়। সেখান থেকে দুই দিন হেঁটে তারপর তারা পৌঁছাবেন সীমান্তে। অলিউর জানান, এরই মধ্যে তিনি দুইবার ক্রোয়েশিয়া পেরিয়ে স্লোভেনিয়াতে পৌঁছালেও, সেখানে ধরা পড়ে আবার ফেরত এসেছেন। ফেরত আসার পথে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কিন্তু তারপরও কেন আবার একই পথে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে অলিউর বলেন, ‘‘এই গেমের জন্য অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে, প্রায় চার লক্ষ টাকা। এজন্য যেতেই হবে।’’

সবার অবস্থা অবশ্য একরকম না। অনেকেই এখন ফেরত যাওয়ার ইচ্ছাও মনে মনে প্রকাশ করছেন। কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় প্রত্যেকেরই খরচ হয়েছে বড় অঙ্কের টাকা।

বসনিয়ার ভেলিকা ক্লাদুসাতে আটকেপড়াদের বেশিরভাগই বসনিয়া এসেছেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরান, তুরস্ক, গ্রিস, মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া হয়ে। অনেকেরই এরই মধ্যে খরচ হয়ে গেছে ১৫-২০ লাখ টাকা। কেউ কেউ ভিটে-মাটি বিক্রি বা বন্ধক রেখেও টাকা এনেছেন। ফলে দেশে ফিরে এখন চাকরি বা ব্যবসা করে সে ঋণ শোধ করা সম্ভব না বলেও মনে করছেন তারা।

সিলেটের ছাতক থেকে আসা সাইফুর রহমান জানান, তার বন্ধুরা এর আগে বেশ কয়েকবার ‘গেমে গিয়ে’ ব্যর্থ হয়েছেন, এবং বাজেভাবে আহত হয়ে এখন চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‘ইউরোপের নামটাই আসলে আমাদের পাগল করেছে, তাই এই পর্যন্ত আসা।’’

এখন বাংলাদেশে ফেরত যাবেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে সাইফুর বলেন, ‘‘আমার এখন পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কেউ যদি আমাকে বলে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আমার জায়গায় আসবে, আমি পাঁচ লাখ টাকা লস দিয়ে হলেও দেশে চলে যাবো।’’

যারা বাংলাদেশ বা অন্য যেকোন জায়গায় মোটামুটি পরিবার চালানোর মতো অর্থ উপার্জন করতে পারছেন, তারা যেন ভুলেও এই পথে ইউরোপ যাওয়ার জন্য না আসেন, সে অনুরোধও জানিয়েছেন সাইফুর।