ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে আশ্রয়হীন ১৫ হাজার মানুষ

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | আপডেট: ৮:১৪:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১

ইন্দোনেশিয়ায় রিখটার স্কেলে ৬.২ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতের ৮শতোধিক লোক আহত হয়েছে এবং প্রায় ১৫ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার দেশটির পশ্চিম সুলাওয়েসি প্রদেশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে বহু ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধসে পড়ে।

শনিবার একজন দুর্যোগ কর্মকর্তা একথা জানান। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র রাদিতিয়া জোতি জানান, মামুজু নগরী ও মাজানি জেলার ভূপৃষ্ঠের স্বল্প গভীরে আঘাত হানা ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ভূমিকম্প ও আফটার শকে তিন শতাধিক বাড়িঘর ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দ্বীপের চারদিকে এখন কেবল ধ্বংস স্তূপ। শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) মধ্যরাতের ভূমিকম্পের ভয়াবহতার ছাপ সুলাওয়েসি দ্বীপজুড়ে। মাত্র সাত থেকে ১০ সেকেন্ডের ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে উঁচু দালানসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও বাড়িঘর চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাসপাতালও। ভূমিকম্পের পর ৬০টির বেশি আফটার শকের খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনে এখনো অনেকেই চাপা পড়ে থাকতে পারে। ধ্বংসযজ্ঞ সরিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে শুক্রবার দিনভর প্রাণান্তর চেষ্টা চালান উদ্ধারকর্মীরা।

ভূমিকম্পের পর বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। ১৫ হাজারের বেশি মানুষ অন্যত্র চলে গেছেন। অনেকের ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে।

ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহায়তার চেষ্টা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সাউথ সুলাওয়েসির গভর্নর নুরদিন আবদুল্লাহ বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের যে কোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। যাদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে আমরা তাদের সুচিকিৎসার জন্য সাউথ সুলাওয়ায়েসিতে স্থানান্তর করবো।

তবে চলমান করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের জেরে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার, স্থানীয় সময় মধ্যরাতে ৬ দশমিক দুই মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সুলাওয়েসি দ্বীপের ৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মাজেন শহরের ১০ কিলোমিটার গভীরে।