ইমরুলের ১৫তম ও মাহমুদউল্লাহর ২০তম ফিফটি

প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ৯:০২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮

হঠাৎ করেই জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন ইমরুল কায়েস। দুবাইয়ে এশিয়া কাপে টাইগারদের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে শর্ট

নোটিশে খুলনা থেকে উড়িয়ে নেয়া হয় কায়েসকে। আগের দিন দুবাই পৌঁছানো কায়েস রোববার খেলতে নেমে, শুরুতে ভুল করে রান আউট করে মুশফিককে ফেরান। এরপর বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেন ইমরুল। ৮৭ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১২৪ রানে জুটি গড়েছেন তার।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৪৫.৪ ওভারের খেলা শেষে ২১১ রান। ৭৪ রান নিয়ে ব্যাট করছেন রিয়াদ। ৫১ রানে আছেন ইমরুল কায়েস।

মাহমুদউল্লাহর ২০তম ফিফটি

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২০তম ফিফটি তুলে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে হাল ধরেছেন এ অলরাউন্ডার। ৮৭ রানে ৫ উইকেট পড়ে গেলে ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামত করেন রিয়াদ। ষষ্ঠ উইকেটে ইতিমধ্যে ১০৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েছেন তারা।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৬০তম ম্যাচে ফিফিটি তুলে নিয়েছেন রিয়াদ। এই ম্যাচের আগে ১৫৯ ম্যাচ খেলে ৩ সেঞ্চুরি এবং ১৯টি ফিফটির সাহায্যে ৩ হাজার ৪৯০ রান করেন তিনি।

মুশফিকের বিতর্কিত আউট

ইমরুল কায়েসের ভুল কলে সাড়া দিতে গিয়ে রান অাউট হন মুশফিকুর রহিম। দুর্দান্ত খেলতে থাকা মুশফিকুর রহিমের আউট নিয়ে বিতর্ক আছে।

রিভিউতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে রশিদ খানের হাত স্ট্যাম্পে আঘাত হানার আগেই স্ট্যাম্প ভেঙে যায়। কয়েকদফা রিভিউ দেখেও আউটের সিদ্ধান্ত দেন টিভি আম্পায়ার শন জর্জ। সাবেক এই দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটারের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

১৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ, ৮১ থেকে ৮৭ রানের ব্যবধানে হারায় ৩ উইকেট।

ফের বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

১৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ দলকে খেলায় ফেরান লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন। ৪১ রান করে লিটন বিদায় নেয়ার পর কোনো রান যোগ করার আগেই ফেরেন সাকিব আল হাসান। শূন্য রানে রান আউট হয়ে সাজঘরে সাকিব।

এশিয়া কাপে চরম ব্যর্থ নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের দুই ম্যাচে আফগানিস্তান এবং ভারতের বিপক্ষে ৭ রান করে আউট হওয়া তরুণ এ ওপেনার আজ আফগানদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফেরেন মাত্র ৬ রান করে। আফতাব আলমের গতির বলে রহমত শাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শান্ত।দুই রানের ব্যবধানে ২ উইকেট নেই

এরপর দুই রান যোগ করতেই সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুন। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৬৩ রান করা মিঠুন নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছেন না।

আগের দুই ম্যাচে আফগানিস্তান এবং ভারতের বিপক্ষে ২ ও ৯ রান করে আউট হওয়া মিঠুন আজ বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে ফেরেন মাত্র ১ রান করে। মুজিব উর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হন মিঠুন।

ইনিংসের ৫.৩ ওভারে দলীয় ১৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যায় বাংলাদেশ দল।

বাদ পড়েছেন মোসাদ্দেক-রুবেল, খেলছেন ইমরুল-অপু

সুপার ফোরের চতুর্থ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একাদশে জায়গা পেয়েছেন ইমরুল কায়েস। বাজে পারফরম্যান্সের কারণে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে বাদ পড়েছেন। তার পরিবর্তে খেলছেন ইমরুল। এছাড়া পেস বোলার রুবেল হোসেনের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মাশরাফি

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস করছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা-ফাইল ছবি এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলতে হলে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশে দলের। সুপার ফোরের প্রথম খেলায় ভারতের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় মাশরাফিদের জন্য আজ বাঁচা-মরার লড়াই।

এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

টানা দু’দিনে দুই ম্যাচে হার। একদিন বিরতির পর আজ আবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল। প্রতিপক্ষ সেই আফগানিস্তান। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে যাদের কাছে ১৩৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

এরপর শুক্রবার সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে সাত উইকেটের আরেকটি শোচনীয় হার। তারপরও এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখেছেন অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। এজন্য আজ এবং শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে অবশ্যই জিততে হবে বাংলাদেশকে।

শুধু বাংলাদেশ দলের জন্যই নয়, আজকের আফগানিস্তানের জন্যও টিকে থাকার লড়াই। সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে আফগানরা হেরেছে পাকিস্তানের কাছে। ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচে জয় জরুরি দুই দলের জন্যই।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাজমুল ইসলাম অপু।

আফগানিস্তান একাদশ: মোহাম্মদ শাহজাদ, ইহসানউল্লাহ, রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ শহীদি, সামিউল্লাহ সেনওয়ারি, আসগর আফগান, মোহাম্মদ নবি, রশিদ খান, আফতাব আলম ও মুজিব উর রহমান।