ইরানে সুন্নিদের ঈদের নামাজে পুলিশের বাধা!

প্রকাশিত: ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৪৪:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৮

শিয়া অধ্যুষিত ইরানে কয়েকটি এলাকায় সুন্নিদের ঈদের নামাজে বাধা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সুন্নি কমিউনিটি। বুধবার ঈদের নামাজ আদায় করতে গেলে চারটি জেলায় সুন্নিরা পুলিশের বাধার সম্মুখিন হয়।

তেহরানে সুন্নিদের সংগঠন ‘দ্য কাউন্সিল অব আজেরি সুন্নি প্রেয়ার্স সেন্টার’ ও পার্শ্ববর্তী আলবোর্জ প্রদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

ওই বিবৃতিটি ইরানের রাষ্ট্রপরিচালিত সংবাদমাধ্যম ‘শাফাকনা’য় প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ইরানের সুন্নিদের সংবাদমাধ্যম ‘সুন্নি অনলাইন’এ বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। পরে আমেরিকান গণমাধ্যম ‘ভয়েস অব আমেরিকা’ (ভোয়া) এর ইংরেজি ও বাংলা সংস্করণ খবরটি বেশ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করে।

ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা সংস্করণে প্রকাশিত খবর

‘দ্য কাউন্সিল অব আজেরি সুন্নি প্রেয়ার্স সেন্টার’ ও আলবোর্জ প্রদেশের বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার পবিত্র ঈদ উদযাপনের জন্য সুন্নি মুসলমানরা নামাজের স্থানে যেতে চাইলে তাদের বাধা দেয়া হয়। মোট চারটি জেলায় সুন্নিরা বাধাগ্রস্থ হয়।’

বিবৃতিতে উল্লেখ করা চারটি জেলা হচ্ছে; খালিজ-ই-ফার্স, পুনাক, রিসালাত এবং ইয়াফটি আবাদ।

ইরানের সরকার পরিচালিত সংবাদ মাধ্যম ‘শাফাকনায়’ প্রকাশিত খবর

সুন্নি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, সুন্নি অনলাইন জানতে পেরেছে যে, চারটি এলাকায় সুন্নি মুসলমানদের ঈদের নামাজের স্থানে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে এবং বাধাপ্রাপ্তরা নামাজ পড়তে পারেনি।

সুন্নি অনলাইনে প্রকাশিত খবর

সুন্নি অনলাইনের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় সুন্নিদের নামাজ পড়ার কোনো মসজিদ নেই। সাধারণ কোনো বাড়িতে একত্রিত হয়ে তারা নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজের জন্যও তারা বিভিন্ন বাড়িতে নামাজ আদায়ের জন্য একত্রিত হচ্ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিগত কয়েক বছর ধরে এসব এলাকায় সুন্নিরা ঈদের নামাজে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সুন্নিদের নির্ধারিত নামাজের স্থানে ঈদের নামাজ পড়তে কোনো বাধা নেই। কিন্তু পুলিশ হঠাৎ করে বাধা দিচ্ছে।

সুন্নি অনলাইনে বলা হয়েছে, সন্থানীয় এক সুন্নি কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ঈদের আগের দিন পুলিশ স্থানীয় কয়েকটি সুন্নি নামাজের স্থানের কমিটিকে ডেকে পাঠায়। তারা পুলিশের কাছে গেলে ঈদের নামাজ আদায় না করতে বলা হয়। তেহরান প্রদেশ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও তাদের জানায় পুলিশ।

সুন্নি অনলাইনে প্রকাশিত খবর

এ ঘটনার পর সুন্নিরা স্থানীয় এমএনএ ইঞ্জিনিয়ার আলীম ইয়ারমোহাম্মদী এবং ড. জুলফিকার তালেবের (ইরানের প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারি)সাথে বৈঠক করেন।

উল্লেখ্য, ইরানের আট কোটি জনসংখ্যার প্রায় ১০ ভাগ সুন্নি মুসলমান। এর মধ্যে তেহরানেই বসবাস করে প্রায় ১০ লাখ সুন্নি মুসলমান।

ভয়েস অব আমেরিকার ইংরেজি সংস্করণে প্রকাশিত খবর

ভয়েস অব আমেরিকাকে শুক্রবার দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের সুন্নি নেতা আব্দুস সাত্তার বলেন, ইরানের একজন শিয়া নেতা সুন্নি মুসলমানদের একত্রিত হয়ে সমাবেশ বা জমাতে হোক তাতে আপত্তি জানানোয় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।