ইরান মিথ্যা বলছে: নেতানিয়াহু

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ৪:০৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধকরণ প্রসঙ্গে ইরান বিশ্ববাসীকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বক্তব্যের সময় তিনি এর প্রমাণ হিসেবে একটি স্যাটেলাইট ছবি প্রদর্শন করেন।

ছবি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন যে, এখানে ইরান তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরি গোপনে অব্যাহত রেখেছে।

উপস্থিত বিশ্বনেতাদের তিনি বলেন, প্রয়োজনে আপনারা গুগোল ম্যাপ থেকে এটা দেখে নিতে পারেন।

নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, ইসরাইলের গোয়েন্দারা খুঁজে পেয়েছে যে, ইরান তেহরানের আবাসিক এলাকায় ক্ষতিকর বিকিরণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পরমাণু অস্ত্রের ১৫ কেজি পদার্থ লুকিয়ে রেখেছে।

নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার প্রধান ইওকিয়া আমানোকে এই মুহুর্তেই ব্যাপারটি তদন্ত করার দাবি জানান।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এমন কোন সরকারকে পরমাণু অস্ত্র বানানোর সুযোগ দিবো না যারা আমাদের ধ্বংস চায়। এখন যেমন নয়, ১০ বছর পরেও নয়। এমনকি কখনোই নয়।

আমেরিকার মতো ইউরোপীয় দেশগুলোকেও ২০১৫ সালের ‘ইরান পরমাণু চুক্তি’ থেকে বেরিয়ে আসতে নেতানিয়াহু আহ্বান জানান।

সিরিয়া, ইরাক, লেবাননসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইরানের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির প্রতি সন্তুষ্ট এবং লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দায়ী করেন তিনি।

নেতানিয়াহু ইরানের হাজার হাজার প্রতিবাদি মানুষের প্রশংসা করেন যারা বেকারত্ব বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি রাস্তায় নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, ইরানের সাহসী মানুষেরা সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। তারা প্রায় ৪ দশক ধরে ইরান সরকারের কাছে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যেকে রক্তাক্ত করতে জনগণের টাকা খরচ করছে ইরান।

তবে ২০১৫ সালের ৬ জাতির ‘ইরান পরমাণু চুক্তি’র মধ্যে সুবিধাও খুঁজে পাচ্ছেন নেতানিয়াহু।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই চুক্তির একমাত্র উপকারী দিক হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের কাছাকাছি আসতে পেরেছে ইসরাইল।

বক্তব্যে নেতানিয়াহু ইসরাইলের জাতিরাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগকে আকুণ্ঠ সমর্থন দেয়ায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

যদিও ‘ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল’ আইন পাশ হওয়ায় দেশটির সমালোচনা করেছে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো।