ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২৪৬ কোটি টাকার প্রকল্প

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | আপডেট: ১:২৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পৃথক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয় গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়।

এই প্রকল্পের আওতায় ছয়টি অভয়াশ্রম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করা হবে। জাটকা নিধন বন্ধে ৩০ হাজার জেলে পরিবারে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

১০ হাজার জেলে পরিবারকে বৈধ জাল দেওয়া হবে। দেশের ২৯ জেলার ১৩৪ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাঁচায় অন্যান্য মাছ চাষে জেলেদের প্রশিক্ষণের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া একনেকে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসহ পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। আর তা জোগান দেওয়া হবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে।

অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হলো—২৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ৭৩টি কম্পোজিট আধুনিক বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট নির্মাণ, ৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি সরকারি শিশু পরিবারে ২৫ শয্যাবিশিষ্ট শান্তিনিবাস নির্মাণ, ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও চট্টগ্রামে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন।

সারা দেশে অপ্রয়োজনে নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যেখানে প্রয়োজন, কেবল সেখানেই নতুন রাস্তা নির্মাণ করতে হবে।

অহেতুক কারো বাড়ির পাশে রাস্তা টেনে নেওয়ার জন্য বাড়তি সড়ক নির্মাণ করা যাবে না। আমাদের কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। তা রক্ষায় নতুন সড়ক নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে বেশি জোর দিতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে একনেকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পরিকল্পনাসচিব আসাদুল ইসলাম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ইয়ামিন চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) শামীমা নার্গীস, আবুল কালাম আজাদ, জাকির হোসেন আকন্দসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। শুধু সড়ক নির্মাণ করলে হবে না। আমাদের আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতার হিসাব-নিকাশও রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মূল বার্তা হলো, সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। তা যেন জনসাধারণের যথাযথ কাজে লাগে ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়। রাস্তাটি আমার বাড়ির পাশ দিয়ে যাবে—এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

একনেক সভায় ৩৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জামালপুরের দিগাপাইত-সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ শিরোনামের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, জমি সুরক্ষা করতে হবে। বেশি সড়ক নির্মাণ করলে জলাভূমির দেশে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। যাদের অল্প জমি রয়েছে এবং সেই জমিতে বাড়িঘর করে থাকছে, সেসব জমি অধিগ্রহণ থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে হবে।