ইলিয়াস আলীকে আওয়ামী লীগ গুম করেনি: মির্জা আব্বাস

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২১ | আপডেট: ২:৪৮:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২১

বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ঘটনায় ৯ বছর পর শনিবার (১৭ এপ্রিল) এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের দেওয়া বক্তব্যে দলের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ওই সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ইলিয়াস গুম হওয়ার আগের রাতে দলীয় অফিসে কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়, ইলিয়াস খুব গালিগালাজ করেছিলেন তাকে।সেই বিষধর সাপগুলো এখনও আমাদের দলে রয়ে গেছে। যদি এদের দল থেকে বিতাড়িত করতে না পারি, সামনে এগুতে পারবেন না কোনো অবস্থাতেই।’

মির্জা আব্বাসের মতে, আওয়ামী লীগ ইলিয়াস আলীকে গুম করেনি। ইলিয়াস আলীকে গুম করার পেছনে ভেতরের কয়েকজন নেতা দায়ী। ওইসব নেতাদের অনেকেই চেনেন। মির্জা আব্বাসের এমন বিস্ফোরক তথ্য দেওয়ার পর দলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সরকার এম ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে এতদিন ধরে দলটির পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ থাকলেও বিএনপি’র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতার এই বক্তব্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে বেশ কয়েকজন অনীহা প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘আজকে আমরা দেখলাম ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় মির্জা আব্বাস তার সবচেয়ে প্রিয় ভক্ত এম ইলিয়াস আলীকে স্মরণ করতে অত্যন্ত আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছেন।

তার বক্তব্য ভারী হয়ে আসছিলো। দীর্ঘ ৯ বছর পর তিনি একটি তথ্য পাবলিকলি দিয়েছেন। এটা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানান ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। তিনি এতদিন কেন এটা বলেননি?

ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ইস্যুতে যেখানে সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে সেখানে মির্জা আব্বাস এই মুহূর্তে কেন সেটা বিএনপি ঘাড়ে চাপাতে চাইছেন এটা নেতাকর্মীদের মনে একটা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

দলের এই করুণ পরিস্থিতিতে মির্জা আব্বাস কি তাহলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে ইলিয়াস আলীর সেন্টিমেন্ট নিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চাইছেন? যেখানে বেগম খালেদা জিয়া তারেক রহমান সংস্কারপন্থীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। সেখানে তিনি এত বছর পরে এসে এই বিস্ফোরক ছেড়ে কী অর্জন করতে চাইছেন? হাজারো প্রশ্ন নেতাকর্মীদের মনে।

তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেন মির্জা আব্বাস পাবলিকলি ধরনের বক্তব্য দিয়ে সংস্কারপন্থীদের ধমকের মাধ্যমে ইলিয়াস আলীর অনুগামী দের একদিকে যেমন সন্তুষ্ট করেছেন অন্যদিকে সরকারের অভিযোগ বিএনপির কাঁধে চাপিয়ে সরকারকেও সন্তুষ্ট করেছেন। সরকারের সাথে সম্পর্ক না রাখলে তার অন্যান্য জায়গায় সমস্যা হয় কিনা সেটাও বোঝার চেষ্টা করছে নেতাকর্মীরা।’

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানান, ‘যে মুহূর্তে দলের নতুন নেতৃত্ব সংগঠনকে গুছিয়ে আনছেন, সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি করা চেষ্টা করছেন ঠিক সেই মুহূর্তে মির্জা আব্বাসের বক্তব্য নতুন করে সন্দেহ-উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা তৈরি করবে।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি কাকে ফাঁসিয়েছেন বা কার দিকে ইঙ্গিত করেছেন সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। ৯ বছর পর সরকারের হাতে রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দেয়া কতটা বুদ্ধিমানের কাজ তা বলা বাহুল্য।’

মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্যের ব্যাপারে ওই আলোচনায় যুক্ত থাকা ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাইনা। যেভাবে পত্রপত্রিকায় আসছে তাতে একজন দায়িত্বশীল নেতা এভাবে বলতে পারেন কোন বিষয় এটা নিশ্চিত হওয়ার মতো নয়।

আজ বিকেলে প্রেস কনফারেন্স ডেকেছেন ওনার বক্তব্যটা মনে হয় আমাদের শুনা দরকার। উনি আদৌ বলছে কি না আর বললে কি ভাবে বলছে এজন্য তার প্রেস কনফারেন্সটা আমাদের শুনা দরকার।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আপনারা এ বিষয়ে সব কিছুই জানেন। আজকে বিকেলে এ ব্যাপারে মির্জা আব্বাস প্রেস কনফারেন্স ডেকেছেন।

তিনি নিজেই এ বিষয়ে কথা বলবেন। এখানে আমার কিছুই বলার নেই। তবে আজ রবিবার বিকেল তিনটায় মির্জা আব্বাস শাজাহানপুরের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। দপ্তর সূত্র জানিয়েছে মির্জা আব্বাস এবিষয়ে তার বক্তব্য স্পষ্ট করবেন।