ইলেকশনের আগে উনি ভাগাতালি হন: মতিয়া

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫৭:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর রাজনৈতিক ঐক্য প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ইলেকশনের আগে উনি ভাগাতালি হন। কাজেই দুই পলায়নপর নেতা এবং আরেক পলাতক নেতা তারেক রহমানের একটা ঐক্য হয়েছে। টা টা বাই বাই উনি আর নাই, উনি হলেন কামাল হোসেন।

শনিবার বিকালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে কাজী বশির মিলনায়তনের কর্মী সমাবেশ তিনি একথা বলেন। ‘বিএনপির অব্যাহত মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রেরর বিরুদ্ধে’ কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে বানচাল করার লক্ষ্যে তৎকালীন সময়ে বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসের নৃশংতার কথা তুলে ধরে মতিয়া চৌধুরী বলেন, এমন নরপিশাচ ওই লোকেরা। যারা আজকে নির্বাচন বানচালের জন্য নেমেছে। ওই বিএনপি-জামায়াত জোট এবং ড. কামাল হোসেন। কিন্তু শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ওই ২০১৪ সালের নির্বাচন শুধু সেদিন অনুষ্ঠিতই হয় নাই, শেখ হাসিনা ৫ বছর দক্ষতার সঙ্গে দেশ শাসন করে আজকে আরেকটি নির্বাচনের সম্মুখীন। এই অবস্থায় আমরা আবার দেখতে পাচ্ছি, আবার ওরা নির্বাচন বানচালের জন্য ষড়যন্ত্রের রাস্তা বেঁচে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বানচালের করার জন্য মাঠে নেমেছে।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী আরও বলেন, কামাল হোসেন কে? আপনাদের মনে আছে? ১৯৭৮ সালে গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের প্রার্থী ছিল সেই জেনারেল ওসমানীর। জেনারেল ওসমানীর ফাইনাল প্রজেকশন মিটিং ছিল এই পল্টনে। সেইদিন কামাল হোসেন আগের রাতে ভাগাতালি হয়ে গেলেন, টা টা বাই বাই উনি আর নাই। ইলেকশনের আগে উনি ভাগাতালি হন।

এক সময়কার সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল হোসেনের সমালোচনা করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, তিনি আবার পথে নেমেছেন। যুদ্ধাপরীদের বিচারে ওনাকে দেখা যায় নাই। সেই ওয়ান ইলেভেনে যখন সেই স্বৈরশাসন বাংলার বুকে চেপে বসেছিল তখন তাকে দেখা যায় নাই। আজকে উনি এসেছেন ‘গণতন্ত্র, ও জনগণের অধিকার’ নাকি উনি ফেরাইয়া দেবেন।

এ বিষয়ে মতিয়া বলেন, ‘আরে আপনি ইলেকশনের আগের দিন পলাইয়া যান আপনারে খুইজ্জা পাওয়া যায় না। আর লম্প পাড়েন। আপনি আসছেন, গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার বি চৌধুরীর সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, বি চৌধুরী কে? আমার কথা না। জিয়াউর রহমানের মারা যাওয়ার পরে তখনকার কাগজ খুইল্যা দেখেন। কি হেডিং ছিল? ‘ঝাঁকে ঝাঁকে বুলেট, বাবার বুক ঝাঁঝরা করে দিল, তুমি কোথায় লুকিয়ে ছিলে বুদু কাকা, এটা হল তারেক রহমানের বিলাপ।’

এ ছাড়াও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে রেল লাইন দিয়ে বি. চৌধুরীর দৌঁড়ানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এখন শখ জাগছে ওনি আবার কিছু একটা হবেন?এই জন্য দুই পলায়নপর নেতা ….।

তিনি আরও বলেন, এই কামাল হোসেন শুধু কি ওসমানীর ইলেকশন, আমার লেখা নয়। ব্যারিস্টার আমির উল ইসলামের লেখা পড়েন। পরিষ্কার আছে, ২৫ মার্চ উনি তাজউদ্দিন ভাই ও আমির উল ইসলামের রাইখ্যা বলেন, আমি এইখানে একটু নামি। পরে দেখা হবে। পরে আর জিন্দেগীতে দেখা হয় নাই।

‘কাজেই দুই পলায়নপর নেতা আরেক পলাতক নেতা সে হলো তারেক রহমান। এই তিনজনের একটা ঐক্য হয়েছে, আর সেই ঐক্য দিয়া তারা নাকি বাংলাদেশ উদ্ধার করবে। ইলেকশন বানচাল করবো। গণতন্ত্রের নামে এই দেশে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করবেন। এদের কাণ্ডকীর্তন দেইখ্যা আজম খানের একটা গানের কথা মনে হয়।

এ সময় আজম খানের সেই গান ‘বাঘ মারতে যামু, বাঘ মারতে যামু, বন্দুক নিয়া রেডি হইলাম আমি আর মামু।’ এই আমি আর মামুর দল। বাঘ মারার জন্য রেডি হচ্ছে। ইনশাল্লাহ, নির্বাচন সময়মতো যখন হবার হবে।

২০১৪ সালের ইলেকশন যমন ঠেকাতে পারেন নাই। বাঘ মারতে যাওয়ার ডর দেখাইয়া কোনো লাভ নাই। ওটা বাঘ না, ‘ফেউ’ মারতে যাচ্ছে। ওই ‘ফেউ’র পিছনে বাংলার মানুষ নাই।

মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ ছাড়াও জোট নেতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সমাজক্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জেপির চেয়ারম্যান পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একাংশের নেতা শরীফ নুরুল আম্বিয়া, অপরাংশের নেতা শিরীন আকতার, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুর বশর মাইজভান্ডারী, গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাত হোসেন, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, বাসদের রেজাউর রশিদ খান, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নিম চন্দ্র ভৌমিক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাতসহ আরও অনেকে। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।