ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরাকের নুজাবা মুভমেন্ট

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩৪ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২১ | আপডেট: ৮:৩৪:অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২১

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরাকের নুজাবা মুভমেন্ট। সংগঠনের মুখপাত্র নাসর আশ-শাম্মারি বলেছেন, তারা দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত আছেন।

সোমবার (১৭ মে) পার্স টুডের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে নুজাবা মুভমেন্টের।

নাসর আশ-শাম্মরি বলেন, ইরাকের জনগণ বিশেষ করে প্রতিরোধ সংগ্রামীরা ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। ফিলিস্তিনিরা কাসেম সোলাইমানি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আশ-শাম্মারি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিরা দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তা প্রশংসনীয়। আর আরব দেশগুলোর যেসব শাসক ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ করেছে তাদের প্রতি আমাদের ঘৃণা। তারাও ইসরাইলের অপরাধে সমভাবে অপরাধী।

দখলদার ইসরাইল গত আট দিন ধরে গাজায় নির্মম হামলা চালিয়ে আসছে। অবশ্য ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগ্রামীরাও পাল্টা জবাব দিচ্ছে।

এদিকে গাজায় নির্বিচারে বিমান হামলা এবং নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যার প্রতিবাদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ করেছেন লাখ লাখ মানুষ। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। অনেক দেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ঘটনাও ঘটেছে।

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রোববার (১৬ মে) জর্ডানের রাজধানী আম্মানের রাস্তায় বিক্ষোভে নামেন হাজার হাজার মানুষ। নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। এসময় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ বাঁধা দিলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

টানা তৃতীয় দিনের মতো ইসরায়েল সীমান্তে বিক্ষোভে করেছেন সাধারণ লেবানিজরা। শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি জানাতে দূর দূরান্ত থেকে সীমান্তে আসেন তারা। তবে, তাদের সীমান্ত থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে দেশটির সেনাবাহিনী।

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে পাকিস্তানের করাচিতে। শান্তিপূর্ণ এ বিক্ষোভে নারী পুরুষ সবাই অংশ নেন। পুড়িয়ে ফেলা হয় ইসরায়েল ও তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা।

সাধারণ ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনী ও মেলবোর্নে। এসময় গাজায় অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভ হয়েছে পাশ্ববর্তীদেশ নিউজিল্যান্ডেও।

ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে এদিন মেক্সিকোর রাস্তায় নামে সাধারণ মেক্সিকানরা। চলমান সংঘাত বন্ধে পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তারা। এছাড়াও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে।

ফিলিস্তিনে থামছেই না ইসরাইলের বোমা বর্ষণ। বাদ যায়নি আবাসিক ভবনও। এখন পর্যন্ত ৫৮ শিশুসহ অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। জবাবে তেল আবিবে রকেট হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

গাজায় সর্বশক্তি প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। এদিকে, ফিলিস্তিনের শিশুদের নির্বিচারে হত্যার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরাইলকে সমর্থন করায় বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।