ইসরাইল আর কতো অপরাধ করলে ওআইসি’র বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে?: ইরান

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২১ | আপডেট: ৩:৪০:অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২১

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিচারবিভাগের মানবাধিকার বিষয়ক দফতরের মহাসচিব আলী বাকেরি কানি বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল আর কত অপরাধ করলে মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি’র জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। অধিকৃত ফিলিস্তিন বিশেষ করে অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেছেন।

আলী বাকেরি কানির এ বক্তব্য কেবলই একটি প্রশ্ন নয় বরং তিনি এমন এক তিক্ত বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা সম্প্রতি গাজা ও কুদস শহরে আমরা দেখতে পাচ্ছি। ইসরাইল গাজায় যে বর্বরোচিত আগ্রাসন চালাচ্ছে তা মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধ এবং বংশ নিধনযোগ্য ছাড়া আর কিছুই নয়। দখলদার ইসরাইল বর্তমান যুগের সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে গাজার আবাসিক এলাকা একের পর এক ধ্বংস করে চলেছে। বড় বড় ভবনে বোমা হামলা চালিয়ে এক জায়গায় নারী, শিশু, বয়স্ক মানুষকে হত্যা করছে। গাজার পানি, বিদ্যুত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে।

ইসরাইলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা এতটাই ছাড়িয়ে গেছে যে, মুসলিম দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া দরকার হয়ে পড়েছে। তারা সর্বনিম্ন যে কাজ করতে পারে সেটা হচ্ছে মজলুম ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ওআইসির জরুরি বৈঠক ডাকা যাতে করে তারা গাজায় ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে কয়েকটি আরব দেশের নতজানু নীতি এবং তাদের সমর্থনের কারণে দখলদার ইসরাইল ও আমেরিকা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফিলিস্তিন বিরোধী এ চক্রটি মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা হিসেবে ফিলিস্তিন ইস্যুটিকে ম্লান করে দেয়ার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে তারা ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে এবং ইসরাইলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবসের ভাষণে ফিলিস্তিন সংকটকে মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন ও প্রধান সমস্যা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ‘ইসরাইল প্রথম থেকেই অধিকৃত ফিলিস্তিনকে সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটিতে পরিণত করেছে’। তিনি আরো বলেন, ‘ইসরাইল এমনটি অবৈধ রাষ্ট্র যারা ফিলিস্তিনসহ সব মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আর সে কারণে অবৈধ ও জুলুমবাজ এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব’।

মোটকথা, মানবাধিকারের দাবিদার ইউরোপসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ, দখলদারিত্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাবলী কিভাবে উপেক্ষা করে চলেছে সেটাই এখন প্রশ্ন। এ অবস্থায় কেবল মুসলিম দেশগুলোকেই ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সুত্র: পার্সটুডে।