ইসরায়েলে সিনাগগে আগুন, শহরজুড়ে দাঙ্গা

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২১ | আপডেট: ৮:০৫:অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২১

ইসরায়েলের লড শহরের একটি সিনাগগে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় সিনাগগের সমনের সড়কের সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িও ভস্মীভূত করে দেওয়া হয়। এদিকে আরবদের বহনকারী গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করে ইসরায়েলিরা। এতে করে শহরজুড়ে দাঙ্গা শুরু হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

তেলআবিবের কাছে আরব-ইহুদি শহরটিতে দাঙ্গা সামাল দিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (১১ মে) রাতে শহরটিতে বসবাসরত ইসরাইলি আরবদের বিক্ষোভ সংঘর্ষে রূপ নিলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন তিনি।

মূলত ইসরাইলের সেনাবাহিনী ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের চলমান হামলার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটলো।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী তেল আবিবের পার্শ্ববর্তী শহর লোডে বিক্ষোভ করে ইসরাইলি আরবরা। পরে এই বিক্ষোভ দ্রুতই সংঘর্ষে রূপ নেয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের প্রতি গ্রেনেড ছোড়ে।

ইসরাইলি আরব এক ব্যক্তির মৃতদেহ দাফনের পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়। ইসরাইল ও ফিলিস্তিনির চলমান হামলায় গত সোমবার ওই ব্যক্তি নিহত হয়। লোড শহরের পুলিশ জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

এদিকে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, বুধবার (১২ মে) সকালে হামাসের রকেট হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক ইসরাইলি আরব ব্যক্তি এবং তার ১৬ বছরের মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ সময় তার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়। তারা ব্যক্তিগত গাড়ি করে যাওয়ার সময় রকেটটি আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা-কন্যা নিহত হন।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশটিতে বসবাস করা আরব সংখ্যালঘুরা সিনাগগটি অগুন ধরিয়ে দেন। ভস্মীভূত সিনাগগের প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে তোরাহ সরিয়ে নিয়েছেন লোকজন।

আর আরব বাসিন্দারা বলছেন, তারা বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লডের সহিংসতা সামাল দেওয়ার জন্য তারা অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে সীমান্ত পুলিশের ১৬টি কোম্পানিকে তলব করেছেন।

লডের মেয়র ইয়ার রেভিভো বলেন, আমরা শহর ও সড়কের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি। সহিংসতায় এক আরব নাগরিক নিহত ও বহু আহত হয়েছেন। রাতে লড ও সংখ্যাগরিষ্ঠ আরব শহর থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

পূর্ব জেরুজালেমের আল-জাররাহ পাড়া থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের চেষ্টার পর গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণহানি বেড়ে ৩৬ জন হয়েছে।

বুধবার (১২ মে) ভোরে শহরটিতে গাজা থেকে ছোড়া একটি রকেটের আঘাতে শহরটির ৫২ বছর বয়সী এক বাবা ও তার ১৬ বছর বয়সী কন্যা নিহত হয়, মেয়েটির মা গুরুতর আহত হয়েছেন।

১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম ইসরায়েল সরকার একটি আরব অধ্যুষিত শহরে জরুরি অবস্থা জরি করল।

ইসরায়েলে ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘু বাস করেন। আরব সংখ্যালঘুরা উত্তরাধিকারসূত্রে ফিলিস্তিনি হলেও ইসরায়েলের নাগরিক। তারা উসমানীয় ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল সৃষ্টি হওয়ার পরও নিজেদের এলাকায় রয়ে গেছেন। তাদের অধিকাংশই আরবি ও হিব্রু ভাষায় কথা বলেন।