ইসরায়েল-আমিরাতের চুক্তি: যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানাল বিশ্ব

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০ | আপডেট: ১১:৪৬:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ব নেতারা। ইরান ছাড়া প্রায় সবাই এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।বৃহস্পতিবার চুক্তির স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়ে ত্রিপক্ষীয় যৌথ বিবৃতি প্রকাশ হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছে আমার দুই বন্ধু রাষ্ট্র ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি টুইটারে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। টুইটারে সিসি লিখেছেন, আগ্রহ ও প্রশংসা নিয়ে আমি যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের যৌথ বিবৃতিতে নজর রেখেছি, যাতে ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন স্থগিত রাখা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। প্রকাশিত ত্রিপক্ষীয় যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পর তিনি টুইটারে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

টুইটারে সিসি লিখেছেন, আগ্রহ ও প্রশংসা নিয়ে আমি যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের যৌথ বিবৃতিতে নজর রেখেছি, যাতে ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন স্থগিত রাখা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সিসি আরও লিখেছেন, আমাদের অঞ্চলে যে চুক্তি সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আসবে সেই চুক্তির পক্ষে যারা কাজ করেছেন আমি তাদের প্রচেষ্টার কদর করি।

জর্ডান বলেছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি শান্তি আলোচনার দিকে এগিয়ে যেতে পারে যদি তারা ১৯৭৬ সালে যে ভূমি ইসরায়েল দখল করে নিয়েছিল এমন একটি ফিলিস্তিনকে মেনে নিতে পারে। উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। সেই সাথে বাহরাইন এই চুক্তি সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার জন্য প্রশংসা করেছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলছে, ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্তটি বিশাল সুসংবাদ। তিনি বলেন, এটি আমার গভীর আশা ছিল যে পশ্চিম তীরে জোটবদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি এগিয়ে যায় নি এবং এই পরিকল্পনাগুলি স্থগিত করার জন্য আজকের চুক্তি আরও শান্তিপূর্ণ, মধ্য প্রাচ্যের পথে যাওয়ার একটি স্বাগত পদক্ষেপ।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পদপ্রার্থী জো বাইডেন জানিয়েছেন, ইসায়েলি রাষ্ট্রকে জনসম্মুখে স্বীকৃতি দেওয়ার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রস্তাবটি সাহসী এবং প্রয়োজনীয় কাজ। এমন কাজই দেশকে এগিয়ে চলার জন্য চ্যালেঞ্জ জানাবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মতে, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ ফিলিস্তিনিদের সাথে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান উপলব্ধি করতে সহায়তা করতে পারে।

এদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বাক্ষরিত চুক্তির নিন্দা জানিয়েছে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেওয়ার হামাসের পক্ষ থেকে এই চুক্তিকে ফিলিস্তিনিদের পিঠে ছুরিকাঘাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান বলছে, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে চুক্তি লজ্জাজনক। দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা বলছেন, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে এই চুক্তি এই অঞ্চলে শান্তি রক্ষা করবে না।