ইসির নতুন আইন: চাপিয়ে দেওয়া হবে না কিছুই

প্রকাশিত: ৯:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০ | আপডেট: ৯:২৭:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০
ইসি সচিব মোহাম্মদ আলমগীর। ফাইল ছবি

রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে নতুন আইনের খসড়া নিয়ে অংশীজন, পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কারণ তারা মনে করছেন, এতে অযৌক্তিক আর চাপিয়ে দেওয়ার মতো কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, দলগুলোর ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না। প্রস্তাবিত খসড়ার ওপর সবার মতামত নেওয়া হয়েছে। সেগুলোর যৌক্তিকতা বিবেচনা করেই আমরা খসড়ায় সংযোজন বিয়োজন করব।

এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, দল নিবন্ধন আইনের জন্য বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বেশ কিছু দল মতামত দেয়নি। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মতামত দেওয়ার জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে আরো কিছুদিন সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। এরপর আইনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও)-এর অনুচ্ছেদ ৯০এ থেকে ৯০আই-এ রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও নিবন্ধন বাতিলসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আরপিও থেকে ঐ অনুচ্ছেদ রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন, ২০২০’ আইনে। খসড়া আইনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল কর্তৃক প্রার্থিতা মনোনয়নের বিষয়টি রাখা হয়েছে। বর্তমানে আরপিওতে শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে কিছু উল্লেখ ছিল না। খসড়া আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে দুটি জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে অন্তত একটি আসন পাওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। বর্তমান আরপিওতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি আসন পাওয়ার শর্ত রয়েছে। বাকি সব শর্ত হুবহু রাখা হয়েছে। এছাড়া খসড়া আইনে রাজনৈতিক দলের সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রাখার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত সময় বাড়ানোর আবেদনে বলা হয়, দেশের প্যানডেমিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ধরনের একটি মৌলিক আইনের ওপর মতামত দিতে স্টেকহোল্ডারদের মাত্র ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। মতামত প্রদানের সময়সীমা আরো এক মাস বাড়ানো প্রয়োজন।

১৪ দলের অন্যতম নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘দলগতভাবে আমরা এখনো মতামত দেইনি। মতামতের সময় বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ১৪ দলের নতুন সমন্বয়ক নির্বাচিত করা হয়েছে। ১৪ দলের অন্য সব দল বসে এক ও অভিন্ন মতামত প্রদান করা হবে। এদিকে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন, ২০২০ প্রণয়নের কার্যক্রম স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক জানিয়ে দলটি নির্বাচন কমিশনের আহ্বানে খসড়া আইনটির ওপর মতামত দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত ১ জুলাই ইসি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এ কথা বলেন।

আলাল বলেন, করোনা মহামারির এই সময়ে কমিশনের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। খসড়া আইনে বেশ কিছু অসংগতি রয়েছে।

দল নিবন্ধন আইনের খসড়া প্রস্তাব সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন বরাবর ৮ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। একই সঙ্গে আইনটির খসড়া স্থগিতের দাবি জানিয়েছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি করোনা মহামারির বর্তমান ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন, ২০২০’ সংশোধনীর তত্পরতাকে অগণতান্ত্রিক, স্বেচ্ছাচারী ও সংবিধানের মৌল গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করে এই উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত ঘোষণার আহ্বান জানায়। মহামারি দুর্যোগে স্বাভাবিক রাজনৈতিক তত্পরতা যখন বন্ধ, তখন আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ কংগ্রেস ইসির আহ্বানে সাড়া দিয়ে মতামত প্রদান করেছে। এ বিষয়ে দলটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম বলেন, নিবন্ধনের জন্য নতুন যে শর্ত দেওয়া হয়েছে তা অপ্রাসঙ্গিক। দলগুলোর জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগকি (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, কোনো দলের কাছে নয়। এ আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য জনস্বার্থ নাকি রাজনৈতিক দলের স্বার্থ এটাই বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক দল যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে লক্ষ্য হওয়া উচিত দলগুলোকে গণতান্ত্রিক করা।

এ বিষয়ে ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘আমাদের জাতীয় জীবনে এমন সব উদ্ভট, বিবেচনাহীন বিষয় সামনে আসে, যা নিয়ে সুস্থভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো কঠিন। কমিশন জাতির অগ্রগতির পথে অনেক বড় অন্তরায় হয়ে আবির্ভূত হয়েছে।’