ইসি দাবি করলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়ে যায় না, জনতার চোখ বলে একটা কথা আছে: মাহবুব তালুকদার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯ | আপডেট: ৪:১৭:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯
নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করলেই সেটি সুষ্ঠু হয়ে যাবে, এমন কোনও কথা নেই। জনতার চোখ বলে একটা কথা আছে। বললেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ইটিআই ভবনে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব মূলত দুই প্রধান শক্তির ওপর নির্ভরশীল। একদিকে নির্বাচন কর্মকর্তা বা নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা; অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আমি এখন পর্যন্ত যেসব কাগজপত্র দেখেছি, তাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পর্যবেক্ষক পর্যন্ত সবার প্রতিবেদনে দুটি শব্দ অতিমাত্রায় ব্যবহৃত হয়েছে।

একটি শব্দ হচ্ছে সন্তোষজনক এবং অন্য শব্দটি হচ্ছে স্বাভাবিক। তার মানে কি আমাদের নির্বাচন খুবই সন্তোষজনক হয়েছে? এ ক্ষেত্রে পাবলিক পারসেপশন কী, তা নিজেদের কাছেই জিজ্ঞেস করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করার বিষয়ে আমি সবসময় গুরুত্বারোপ করেছি। এ গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অবশ্যই দৃশ্যমান হতে হবে। আমাদের ও আপনাদের সবার কর্মকাণ্ড জনতার চোখে পরীক্ষিত হবে। সুতরাং যথার্থ একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করার জন্য আমাদের সবাইকে অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে।

নিজের অভিজ্ঞতার বিষয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমি ভারতে ছিলাম। সেখানে একটি পত্রিকায় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে লেখা একটি আর্টিকেল পড়ি। তাতে দু-একটি ঘটনার উল্লেখ করা ছিল।

এতে লক্ষ করা যায়, নির্বাচনী দায়িত্বে যারা নিয়োজিত, সেই নির্বাচনী কর্মকর্তারা নির্বাচন সুষ্ঠু করার বিষয়ে অনড় ছিলেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনিয়ম সম্পর্কে তাঁরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে পিছপা হননি।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত যে অনেক বৈপরীত্য সত্ত্বেও গণতন্ত্রের অভিযাত্রা সমুন্নত রেখেছে। তার পেছনে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের অবদান কম নয়।

‘নির্বাচন কমিশনে আমার দুই বছরের অভিজ্ঞতা বলে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিশেষত, নিজস্ব পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে সাধারণত কোনও নেতিবাচক বিষয় লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে আমরা দ্বিধান্বিত।

সবাই যেন কাগজেপত্রে গা বাঁচিয়ে চলতে চান। যদি কেউ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আমার কথার বিরোধিতা করতে পারেন, তাহলে আমি খুশি হবো। আমি মনে করি, নির্বাচনে প্রকৃত চিত্রটি সবার প্রতিবেদনে উঠে আসা উচিত।

আসন্ন সিটি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাকে আমি নাতিশীতোষ্ণ নির্বাচন বলব।

কারণ এই নির্বাচনের মেয়র পদে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা ছিল, যে উত্তাপ ও উষ্ণতা থাকার কথা ছিল, এখন পর্যন্ত অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় তা হবে না। কেবল কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কিছুটা উষ্ণতা আশা করা যায়। আসন্ন নির্বাচনের শৈত্যপ্রবাহ তাতে কেটে যাবে বলে আমরা মনে করতে পারি।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।