ঈদের আগেই শিক্ষার্থীদের মুক্তি চেয়ে ৩৭ শিক্ষকের বিবৃতি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

টিবিটি শিক্ষাঙ্গনঃ‘কোটা সংষ্কার’ ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের প্রতি আইনের সঠিক প্রয়োগ ও ঈদের আগেই তাদের জামিনে মুক্তি দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর এই নিপীড়ন বন্ধে সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আজ বৃহস্পতিবার দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক চাই দুই আন্দোলনেই আমরা দেখেছি, যেই সব ছাত্ররা পুলিশ এবং সরকারী ছাত্র সংগঠন দ্বারা অত্যাচারিত হয়েছে, আহত হয়েছে, নিগৃহীত হয়েছে তাদেরকেই আবার সম্পূর্ণ বেআইনী প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করে নাজেহাল করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

পক্ষান্তরে যারা নিপীড়ন করেছে তাদের বিস্তারিত পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও এখনও পর্যন্ত একজনের বিরুদ্ধেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং গর্হিত অপরাধ। রাষ্ট্রের নাগরিক ও শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত এসব হামলা ও নিপীড়নে আমরা ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত।’

বিবৃতিতে শিক্ষকরা আরও বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যে ঈদুল আজহার প্রস্তুতি শুরু হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ঈদের ছুটিকে ধরপাকড়ের সুযোগ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, কারণ ছুটির মধ্যে সংগঠিত প্রতিবাদ হওয়ার সম্ভাবনা কম। ছুটির রেশ শুরু হতে না হতেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হলের সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয় (পরে মুক্ত) ও ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে সিরাজগঞ্জের বাড়ি থেকে গোয়েন্দা পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।

আমরা সন্তানতুল্য এইসব শিক্ষার্থীদের প্রতি আইনের সঠিক প্রয়োগ চাই এবং অন্তত পক্ষে ঈদের আগে জামিনে তাদের মুক্তি চাই। তাই অবিলম্বে ছাত্রদের ওপর অমানবিক এই নিপীড়ন বন্ধে সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, ‘বিভিন্ন পর্যায়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ১১ জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন এখনও কারাগারে। বাকিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কোটা আন্দোলনের এই রেশ কাটতে না কাটতেই নিরাপদ সড়ক আন্দোলন শুরু হয় দুই স্কুল শিক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় করুণ মৃত্যুর কারণে। স্কুল-কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের উপরে কোটা আন্দোলনের নির্মমতার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

এই নিপীড়নের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা মাঠে নামলে তাদের ওপরেও অত্যাচারের খড়গ নেমে আসে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন এবং বুয়েটের একজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। সংবাদপত্র থেকে জানতে পেরেছি, ‘আন্দোলনে উস্কানি’র অভিযোগে ৫১ মামলায় ৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এইসব অত্যন্ত গর্হিত মানবাধিকার লংঘন এবং একটি ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রয়াস।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষর দেওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নাসির আহমেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেট্রিকাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হাসিবুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো.মাইদুল ইসলাম প্রমুখ।